রাজনীতি

ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন দৌড়ে চার হেভিওয়েট

অনলাইন ডেস্ক

১৩ ঘন্টা আগে


ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন দৌড়ে চার হেভিওয়েট

ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজনীতি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয়ভাবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া না হলেও মাঠে পোস্টার-ব্যানার ও নেতাকর্মীদের তৎপরতায় সম্ভাব্য প্রার্থিতার জানান মিলছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ কাইয়ুম, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানের নাম। এর বাইরে বহিষ্কৃত সাবেক নেতা সাইফুল আলম নীরবকেও মূল্যায়নের দাবি রয়েছে তার অনুসারীদের মধ্যে।

ডিএনসিসি রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। গাবতলী, মহাখালী ও আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনালের মতো প্রধান যোগাযোগকেন্দ্র থাকায় উত্তর সিটি রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত। ফলে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নকে বিএনপির জন্য কেবল স্থানীয় নির্বাচন নয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেরও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবিথ আউয়ালকে ঘিরে পুরোনো সমীকরণ

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তাবিথ আউয়ালের নাম রয়েছে আলোচনার শীর্ষে। ২০২০ সালের সর্বশেষ ডিএনসিসি নির্বাচনে তিনি বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি ফল প্রত্যাখ্যান করলেও তাবিথের রাজনৈতিক পরিচিতি ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা দলীয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আবার মনোনয়ন পেলে ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন তাবিথ। ফলে আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, পরিচিতি এবং নগরকেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তার বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিজ্ঞতায় এগিয়ে এম এ কাইয়ুম

দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা এম এ কাইয়ুমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে উত্তরের সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে।

কাইয়ুম নিজেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন। তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে মনে করছেন তিনি। তার সমর্থকদের যুক্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নির্বাচনী মাঠে তাকে সুবিধা দিতে পারে।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় মিল্টন

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছেন ডিএনসিসির বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব হিসেবে তারও রয়েছে সাংগঠনিক পরিচিতি।

বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করায় উত্তর সিটির নাগরিক সমস্যা, সেবা কার্যক্রম ও নগর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করার কথাও বলেছেন।

আলোচনায় মামুন হাসান, নীরবের নামও

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসানের নামও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতার সমর্থকরাও তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাইছেন।

অন্যদিকে বহিষ্কৃত নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের নামও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। তার অনুসারীদের দাবি, দলের কঠিন সময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাই অতীতের ভুলত্রুটি বিবেচনায় নিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে নতুন করে মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন তারা। তবে বর্তমানে তার দলীয় অবস্থানই মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।

ত্যাগী নেতারাই চান তৃণমূল

ডিএনসিসির সম্ভাব্য মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া হোক। তাদের মতে, শুধু কেন্দ্রীয় পরিচিতি নয়, স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তই মুখ্য। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা-সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দলের হাইকমান্ডে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ হয়নি। যোগ্য ব্যক্তিকেই দলীয় প্রার্থী করা হবে এবং দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত-এমন অবস্থানই জানিয়েছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে ঢাকা উত্তরে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে একদিকে তাবিথ আউয়ালের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি, অন্যদিকে এম এ কাইয়ুমের দীর্ঘ সাংগঠনিক ভিত্তি, শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মামুন হাসানের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিচিতি-এই চারটি সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপি কোন যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে দলটির চূড়ান্ত প্রার্থী।


এক ডিসেম্বর কেন শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন
এক ডিসেম্বর কেন শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে এবং শত শত ডিসেম্বর পার হলেও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা...

১১ ঘন্টা আগে


ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইশরাক, সালাম ও সোহেল
ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইশরাক, সালাম ও সোহেল

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা না করলেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ডিএসসিসির প্রশাসক...

১৩ ঘন্টা আগে


জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি: শফিকুর রহমান
জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি: শফিকুর রহমান

দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়েই রাজপথে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদরাসা মাঠে সমবেত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর...

১৫ ঘন্টা আগে


জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির ‘থার্ড পার্টি’ বললেন সাংবাদিক তানভীর হাসান
জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির ‘থার্ড পার্টি’ বললেন সাংবাদিক তানভীর হাসান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় শক্তি হিসেবে মন্তব্য করেছেন সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক তানভীর হাসান। তাঁর মতে, এই দুই দল এককভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি রাখে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যবহৃত হয়ে তারা নিজেদের দলীয় কিছু...

১ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom