রাজনীতি

ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইশরাক, সালাম ও সোহেল

অনলাইন ডেস্ক

১৩ ঘন্টা আগে


ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে ইশরাক, সালাম ও সোহেল

ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। নির্বাচন কমিশন এখনো ভোটের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা না করলেও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ডিএসসিসির প্রশাসক আব্দুস সালাম ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই দলীয়ভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। জনপ্রিয়তা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা-এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করতে চায় বিএনপি।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হবে। তার ভাষায়, প্রার্থী নির্ধারণ দলের গোপনীয় ও কৌশলগত বিষয়; সময় হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।

ইশরাকের শক্তি তরুণ নেতৃত্ব ও পুরান ঢাকার ভিত্তি

তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট পেয়েছিলেন। নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠা ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস পেয়েছিলেন ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট।

বিএনপির নেতাদের মতে, ওই নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকার কারণে দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় ইশরাকের একটি পরিচিতি ও নিজস্ব ভোটভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুরান ঢাকার স্থানীয় শিকড় ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তার বাবা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা।

ফলে পুরান ঢাকার ভোটারদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, তরুণ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ইশরাকের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপি তরুণ নেতাদের সামনে আনলে ‘তরুণ নেতৃত্ব’ ও ‘ঢাকার সন্তান’—এই দুই রাজনৈতিক বার্তায় ইশরাক সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন দলের একাংশ।

ইশরাক নিজেও জানিয়েছেন, দল চাইলে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তিনি প্রস্তুত। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে নির্বাচনী মাঠে নামতেও তার আপত্তি নেই। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় আব্দুস সালাম

ইশরাকের পাশাপাশি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ডিএসসিসির বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম। এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় নগর পরিচালনা ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বর্তমানে প্রশাসকের দায়িত্বে থাকায় দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিনি। তার অনুসারীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রার্থিতার বিষয়টি জানান দিচ্ছেন।

আব্দুস সালামের মতে, ওয়ার্ড চেয়ারম্যান, নির্বাচিত কাউন্সিলর, ডেপুটি মেয়র ও প্রশাসক হিসেবে নগর পরিচালনার অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে পূর্ণ মেয়াদে আরও পরিকল্পিতভাবে নগরবাসীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।

সাংগঠনিক শক্তিতে এগিয়ে সোহেল

অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও দক্ষিণ সিটির মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত সাংগঠনিক যোগাযোগ সোহেলের বড় শক্তি। তার সমর্থকরাও দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষে তার ছবি ও শুভেচ্ছাবার্তাসংবলিত ব্যানার-পোস্টারও দেখা গেছে।

তবে প্রার্থিতার বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন সোহেল। দল যে দায়িত্ব দেবে, তা পালনে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

জটিল হচ্ছে ভোটের সমীকরণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচন বিএনপির জন্য জাতীয় নির্বাচনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় রাজনীতির বাইরে সিটি নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ সিটির পুরান ঢাকা, নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ড এবং মধ্য ঢাকার ভোটারদের চাহিদা ও রাজনৈতিক প্রবণতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে শুধু দলীয় প্রতীকের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও স্থানীয় ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে সক্ষম প্রার্থীকে এগিয়ে রাখতে পারে বিএনপি।

একই সময়ে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করায় বিএনপির ওপরও প্রার্থী চূড়ান্ত করার চাপ বাড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিলে ইশরাকের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আবার নগর পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিলে আব্দুস সালাম এবং দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিলে হাবিব উন নবী খান সোহেল এগিয়ে যেতে পারেন।

মাঠ গোছাচ্ছে মহানগর বিএনপি

প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আটটি বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে।

এসব টিম মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে। মেয়র পদের পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু প্রার্থী বাছাই নয়; বরং এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া, যিনি দলীয় ভোটের পাশাপাশি সাধারণ ও ভাসমান ভোটারদেরও আকৃষ্ট করতে পারবেন। ইশরাকের তরুণ নেতৃত্ব ও স্থানীয় পরিচিতি, আব্দুস সালামের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সোহেলের সাংগঠনিক শক্তির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোন সমীকরণকে বিএনপি অগ্রাধিকার দেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে দক্ষিণ সিটির নির্বাচনী লড়াইয়ের বড় অংশ।


এক ডিসেম্বর কেন শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন
এক ডিসেম্বর কেন শত ডিসেম্বর চলে গেলেও শেখ হাসিনা আর ফিরবে না: রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে এবং শত শত ডিসেম্বর পার হলেও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা...

১১ ঘন্টা আগে


ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন দৌড়ে চার হেভিওয়েট
ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন দৌড়ে চার হেভিওয়েট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজধানীর রাজনীতি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলীয়ভাবে এখনো কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া না হলেও মাঠে পোস্টার-ব্যানার ও নেতাকর্মীদের তৎপরতায় সম্ভাব্য প্রার্থিতার জানান মিলছে।বিএনপির স্থানীয়...

১৩ ঘন্টা আগে


জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি: শফিকুর রহমান
জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি: শফিকুর রহমান

দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে বাধ্য হয়েই রাজপথে নেমেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদরাসা মাঠে সমবেত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর...

১৫ ঘন্টা আগে


জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির ‘থার্ড পার্টি’ বললেন সাংবাদিক তানভীর হাসান
জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে রাজনীতির ‘থার্ড পার্টি’ বললেন সাংবাদিক তানভীর হাসান

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিকে ‘থার্ড পার্টি’ বা তৃতীয় শক্তি হিসেবে মন্তব্য করেছেন সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক তানভীর হাসান। তাঁর মতে, এই দুই দল এককভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার মতো রাজনৈতিক শক্তি রাখে না। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী কখনো আওয়ামী লীগ, আবার কখনো বিএনপির রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যবহৃত হয়ে তারা নিজেদের দলীয় কিছু...

১ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom