স্কুলে টিফিন পেয়ে বদলে যাচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীদের দিন
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে ১০টা। আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক (২) শ্রেণিকক্ষ। টিফিনের ঘণ্টা বাজার অপেক্ষায় শান্ত হয়ে বসে আছে খুদে শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টা বাজতেই বিদ্যালয়ের সহকারী সোহরাব হোসেন টিফিন নিয়ে হাজির। একে একে প্রত্যেক শিশুর হাতে তুলে দিলেন দুটি করে বনরুটি ও একটি সেদ্ধ ডিম।
সবার জন্য একই খাবার। খাবার হাতে পেয়েই কারও মুখে ফুটে উঠল আনন্দের হাসি, কেউ আবার পরম তৃপ্তিতে খাওয়া শুরু করল। টিফিন শেষে আরেক দৃশ্য-বনরুটির খালি প্যাকেট ও ডিমের খোসা নিয়ে ছোটাছুটি। তবে শ্রেণিকক্ষ নোংরা করতে নয়; নির্ধারিত ময়লার বিনে সেগুলো ফেলতেই এই ব্যস্ততা।
এভাবেই চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
সপ্তাহে পাঁচ দিন ভিন্ন খাবার
আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৩৬৭ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুল ফিডিংয়ের খাবার পাচ্ছে।
সপ্তাহে পাঁচ দিনের খাদ্যতালিকায় তিন দিন দেওয়া হচ্ছে বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম। এক দিন বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং অন্য দিন ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী রুমাইসা চৌধুরী ঈসালের কাছে টিফিনের খাবার কেমন লাগে জানতে চাইলে মিষ্টি হেসে জানায়, তার খাবার বেশ ভালো লাগে। তবে দুধ, বিস্কুট ও কলা তার সবচেয়ে পছন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার সময়টিও তার কাছে আনন্দের।
বাড়ছে উপস্থিতি, কমছে টিফিনে স্কুল ছাড়ার প্রবণতা
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর বিদ্যালয়গুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তার ভাষ্য, আগে কর্মজীবী মায়েদের ব্যস্ততা ও অনেক পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কিছু শিশু খালি পেটে স্কুলে আসত। এতে শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ কম থাকত। এখন বিদ্যালয়েই খাবার পাওয়ায় শিশুরা বেশি উৎফুল্ল ও মনোযোগী থাকছে।
তিনি বলেন, আগে অনেক শিক্ষার্থী টিফিনের সময় বিদ্যালয় থেকে চলে যেত। স্কুল ফিডিং চালুর পর সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। শিক্ষার্থীরা এখন সারিবদ্ধভাবে খাবার গ্রহণ করছে এবং খাবারের প্যাকেট, কলার খোসাসহ উচ্ছিষ্ট নির্ধারিত বিনে ফেলছে। এতে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে।
উপস্থিতি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোমেনা আক্তার খানম বলেন, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে বিদ্যালয়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। এখন সেই হার বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
অভিভাবকরাও বলছেন, স্কুলে খাবারের ব্যবস্থা থাকায় সন্তানকে নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমেছে।
বীরপুর এলাকার বাসিন্দা মায়েশা বিনতে অয়ন বলেন, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকা শিশুদের জন্য এ উদ্যোগ উপকারী। অনেক শিশু বাড়ি থেকে পর্যাপ্ত খাবার খেয়ে স্কুলে যেতে পারে না। এখন অন্তত স্কুলে তারা অভুক্ত থাকবে না-এটা অভিভাবকদের জন্য স্বস্তির।
খাবারের মান নিয়ে নজরদারি
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই করতে বিদ্যালয়গুলোতে ‘মাদার্স কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে তিনজন মা, একজন বাবা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রয়েছেন।
কমিটির সদস্যরা প্রতিদিন সরবরাহকারীর কাছ থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার সময় খাবারের মান ও পরিমাণ পরীক্ষা করেন। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা সরবরাহকারীকে জানিয়ে পরিবর্তন করে নেওয়া হয়।
মাদার্স কমিটির সদস্য আরজু আক্তার জানান, কর্মসূচির শুরুতে বিশেষ করে কলার মান নিয়ে কিছু অভিযোগ ছিল। তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে খাবার বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পর তা পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
অভিভাবক দীপক দাশের প্রত্যাশা, খাবারের মান যেন সবসময় ভালো থাকে এবং কোনো খাবার খেয়ে শিশু অসুস্থ না হয়। পাশাপাশি একই ধরনের খাবার বারবার দেওয়ার পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় আরও বৈচিত্র্য আনার কথাও বলেন তিনি।
তদারকিতে ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’
কর্মসূচির সার্বিক তদারকিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ’ চালু করেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও খাবার সরবরাহকারীরা যুক্ত রয়েছেন।
এই গ্রুপের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির সম্পৃক্ততাও বাড়ানো হচ্ছে।
২০২৭ সালে দেশজুড়ে চালুর পরিকল্পনা
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫০টি উপজেলায় পাইলট হিসেবে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩টি উপজেলায় প্রায় তিন লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
সরকার আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে স্কুল চলাকালে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে শিশুদের বয়সভিত্তিক পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় খাদ্যতালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মায়েদের রান্না করা খাবারের পরিকল্পনা
স্কুল ফিডিংয়ের পরবর্তী ধাপে মায়েদের সম্পৃক্ত করে রান্না করা খাবার সরবরাহের সম্ভাব্য মডেল নিয়েও কাজ চলছে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে স্থানীয়ভাবে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের মাধ্যমে রান্না ও সরবরাহের একটি পাইলট কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য শুধু শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা নয়; বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
আনোয়ারার অভিজ্ঞতা বলছে, স্কুলের টিফিনে এক প্লেট খাবার শুধু শিশুর ক্ষুধা মেটাচ্ছে না-এর সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বিদ্যালয়ে থাকার অভ্যাস, উপস্থিতি ও শিশুদের দৈনন্দিন আনন্দও।
একাদশে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ, ক্লাস ২৩ সেপ্টেম্বর
চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হচ্ছে আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর)। শিক্ষার্থীরা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।তিনি জানান,
৬ দিন আগে
রোজার কারণে পেছাল এসএসসি পরীক্ষা, শুরু ১৪ মার্চ
আগামী বছরের শুরুতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পবিত্র রমজানের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা...
৭ দিন আগে
একাদশ-আলিমে অতিরিক্ত ফি নিলে কঠোর ব্যবস্থা, মার্কশিট আটকে রাখা নিষিদ্ধ
একাদশ ও আলিম শ্রেণিতে ভর্তির সময় নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং শিক্ষার্থীদের মূল অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা মার্কশিট আটকে রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম শ্রেণির ভর্তি...
১০ দিন আগে
‘কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ রাখব’: সাদিক কায়েম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা। কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে নিরাপদ রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এসএসসি,...
১০ দিন আগে
