সুলেমান হত্যা এক বছরে ও শুরু হয়নি বিচার জামিনে অধিকাংশ আসামি
দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মহারাষ্ট্রে হিন্দু বান্ধবীর সঙ্গে ক্যাফেতে দেখা করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ২০ বছর বয়সী সুলেমান পাঠান হত্যাকাণ্ডের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও বিচার শুরু হয়নি। মামলার অধিকাংশ আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ায় সাক্ষীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে নিহতের পরিবার। পুলিশের তদন্তে গাফিলতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সুলেমান পাঠানকে একটি ক্যাফে থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, নিজ গ্রাম বেতাওয়াদ খুর্দে পৌঁছানোর আগে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথজুড়ে তাঁকে একাধিকবার নির্মম নির্যাতন করা হয়। পরে গ্রামে নিয়ে গিয়েও কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সামনে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশ সুলেমানের পরিবার। কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা তাঁর বাবা রহিম খানের পক্ষে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু ছেলের হত্যার বিচার পাওয়ার আশা ছাড়তে চান না তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন সুলেমানকে ক্যাফে থেকে জোর করে একটি ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে ভ্যান থামিয়ে তাঁকে লোহার রড, কাঠের লাঠি ও ঘুষি দিয়ে মারধর করা হয়। গ্রামে পৌঁছানোর পরও নির্যাতন অব্যাহত থাকে। তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধারে গেলে তাঁদের নারী সদস্যদের যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর আহত সুলেমান পরিবারের কোলে মাথা রেখে পানি ও খাবার চাইতে চাইতে মারা যান বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
সুলেমানের পরিবারের দাবি তাঁরা হামলায় জড়িত ১৭ জনকে শনাক্ত করলেও পুলিশ চার্জশিটে তাঁদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী পুলিশ তাঁদের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করে দিতে বলেছিল।
এদিকে, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৮ সালে তেহসিন এস পুনাওয়ালা বনাম ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া মামলায় গণপিটুনি প্রতিরোধ ও এ ধরনের অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সুলেমান হত্যা মামলায় দীর্ঘ সময়েও অভিযোগ গঠন না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলগাঁও জেলা আদালতে এ পর্যন্ত ৪৮টি শুনানি হয়েছে। এরপরও বিচার শুরুর গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছাতে পারেনি মামলাটি।
মামলার এজাহারে হামলা, অপহরণ ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। তবে ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না পড়ায় ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর চার অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের মে মাসে মূল অভিযুক্ত ঋষিকেশ তেলি জামিন পান। আদালতে উপস্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দেখা যায়নি—এমন যুক্তি জামিনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই বছরের আগস্টে বোম্বে হাইকোর্টের আওরঙ্গাবাদ বেঞ্চ আরেক অভিযুক্ত নীতিন পাতিলকেও জামিন দেন।
অধিকাংশ অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত হওয়ায় সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পরিবার। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিজেদের দীর্ঘদিনের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সাক্ষীদের অনেকেই এখনো ওই গ্রামে বসবাস করছেন।
সুলেমানের পরিবার জানিয়েছে, বেতাওয়াদ খুর্দ গ্রামটি হিন্দুপ্রধান হলেও সেখানে আগে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। গ্রামের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন সুলেমান। স্থানীয় গণেশ মণ্ডলের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তাঁর বন্ধুমহলের অধিকাংশ সদস্য হিন্দু সম্প্রদায়ের ছিলেন।
পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত তিনজন সুলেমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সুলেমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল গভীর। ফলে হত্যাকাণ্ডটি পরিবারকে শুধু শোকাহতই করেনি, দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক নিয়েও তৈরি করেছে গভীর অনিশ্চয়তা।
সুলেমানের পরিবার মামলায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং মহারাষ্ট্রের সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন (MCOCA) যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, পুলিশ সেই দাবিতে সাড়া দেয়নি। চার অভিযুক্তের জামিনের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্র সরকার আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের করা রিট পিটিশনেও একাধিক শুনানি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
কৃষিকাজ থেকে সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানো রহিম খানের পরিবারের জন্য আইনি ব্যয় বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবু ধারদেনা করে হলেও ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা।
সুলেমান হত্যা মামলাটি এখন শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; গণপিটুনির ঘটনায় তদন্তের নিরপেক্ষতা, সাক্ষীদের নিরাপত্তা, জামিনের প্রভাব এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের আইনের প্রতি আস্থা আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সাঈদী সাহেব আল্লাহর ওলি ছিলেন বললেন মানিক পশারীর বোন
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। তাঁর মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন, জানাজা এবং সাঈদী সম্পর্কে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য ঘিরে পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামে নানা আলোচনা চলছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক...
১ দিন আগে
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা উত্তর-দক্ষিণে নতুন কমিটি ঘোষণা
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সংসদের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অ্যাডভোকেট আশিকুজ্জামান মোল্লা। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. তানিম ওয়াহিদ।সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও...
৭ দিন আগে
গোপালগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে রক্তাক্ত মসজিদের ইমাম
লিড: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে জাকির হোসেন (৫০) নামে এক মসজিদের ইমামকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের বাশার সিকদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।বডি: রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ডাঙা মাজড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত জাকির হোসেন ওই গ্রামের মৃত সিরাজ মোল্যার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে
৯ দিন আগে
রাজশাহী থেকে চালু হচ্ছে আরও তিনটি ট্রেন, যাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কলকাতা
রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে নতুন আরও তিনটি ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীনভাবে চলাচল করবে। অন্য দুটি ট্রেন চলবে রাজশাহী-চট্টগ্রাম ও রাজশাহী-কলকাতা রুটে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।তিনি বলেন, রাজশাহী থেকে আরও
১০ দিন আগে
