ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে টানাপোড়েন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন ও জাতীয় নীতিনির্ধারণে আরব দলগুলোর ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে আরব দলগুলোর সমর্থন, জোটের শর্ত এবং রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য জোটের শর্ত নিয়ে আরব দলগুলোর অবস্থান দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এবং আসনসংখ্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা কতটা হবে, তা স্পষ্ট নয়।
নির্বাচনের রাতে আরব দল রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাসকে প্রশ্ন করা হয়, আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে গাদি আইজেনকটের দেওয়া শর্ত নিয়ে তাঁর অবস্থান কী। জবাবে আব্বাস প্রথমে সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, আগে দেখতে হবে সরকার গঠন সম্ভব কি না; এরপর শর্ত নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠন কিংবা সরকারের স্থায়িত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনে রা’আম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ওই অভিজ্ঞতার কারণে এবারের নির্বাচনেও আরব দলগুলোর অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাচনী পূর্বাভাসে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কয়েকটি পূর্বাভাসে তাঁর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে থাকতে দেখা গেলেও চ্যানেল ১৪-এর হালনাগাদ পূর্বাভাসে জোটটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়। এসব হিসাব ছিল পূর্বাভাস, চূড়ান্ত সরকারি ফল নয়।
সরকারে অংশগ্রহণের প্রশ্নে আরব দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত পার্থক্য রয়েছে। মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরাসরি সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠিত হলে বাইরে থেকে সেই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়ন ও নজরদারিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বাজেটের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু সীমারেখার কথাও বলেছেন তিনি।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলেও ভবিষ্যৎ সরকারের নীতি ও কার্যক্রম নিয়ে তাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে।
রা’আমের সঙ্গে ইহুদি রাজনীতিক ইয়োভ সেগালোভিচের যুক্ত হওয়াও আলোচনায় এসেছে। তিনি ইয়েশ আতিদ দলের সাবেক আইনপ্রণেতা এবং একসময় ইসরায়েলের জাতীয় অপরাধ তদন্ত ইউনিটের প্রধান ছিলেন। তাঁর অন্তর্ভুক্তি দলটির রাজনৈতিক পরিচয়, আইনশৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাদি আইজেনকট সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে জোটের অংশীদার হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে ছিল ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে চলা, নাগরিক দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা স্বীকার করা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংগঠনটি বিলুপ্ত করার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
আইজেনকটের মতে, কোনো আরব দলই এসব শর্ত পূরণ করছে না। রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রকাশিত একটি পডকাস্টের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনাও নাকচ করেন।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠন করা নাফতালি বেনেট এখন একই ধরনের জোট পুনর্গঠনের বিরোধিতা করছেন। তাঁর আপত্তির কারণ হিসেবে দলটির অ-জায়নবাদী রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা বলা হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান সরকারে রা’আমকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল, সরকারে অংশগ্রহণের শর্ত এবং ইহুদি দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সরকার গঠনের সমীকরণ শুধু আসনসংখ্যার ওপর নির্ভর করবে না; দলগুলোর নীতিগত অবস্থান ও পারস্পরিক সমঝোতাও বড় বিষয় হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্ব, জোট রাজনীতি এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণের প্রশ্নকে সামনে এনেছে। চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল ও পর
ইসরায়েলের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, অনিশ্চিত নেতানিয়াহুর ক্ষমতা
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোট গণনায় নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়নি। ফলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর ইসরায়েলে ভোটগ্রহণ চলে। স্থানীয় সময় রাত...
১ ঘন্টা আগে
জাপানে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে অবস্থিত জেরা’র (জেইআরএ) স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি এ পরিদর্শন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির
২৩ ঘন্টা আগে
মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি প্রত্যাখ্যান হুথিদের
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনাকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর কিছুক্ষণ আগে সৌদি আরব দাবি করেছিল, মদিনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে
১২ দিন আগে
বাংলাদেশ আমাদের পথ দেখিয়েছে: ভারতের জেন জি আ‘ন্দো‘লন নিয়ে নেহা বোরার মন্তব্য
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের চলমান আন্দোলন বা জেন-জি প্রতিবাদ বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্ট ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন,
১৩ দিন আগে
