বিশেষ সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের দখলে ভবিষ্যৎ আইনপ্রণেতাদের তালিকা

অনলাইন ডেস্ক

৮ মাস আগে


ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের দখলে ভবিষ্যৎ আইনপ্রণেতাদের তালিকা

ছবি: সংগৃহীত


শতাধিক ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক সম্ভাব্য আইনপ্রণেতাকে ঘিরে গত সপ্তাহজুড়ে নির্বাচন কমিশনে এক নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। কয়েক দিনের শুনানি ও যাচাই-বাছাই শেষে দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবারই মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

একজন বিশাল অঙ্কের ঋণখেলাপির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্বখেদে মন্তব্য করেন, “মনোনয়ন বৈধ করলাম, ব্যাংকের টাকাটা এবার দিয়ে দিয়েন। টাকাটা না দিলে কিন্তু জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে এটা আপনাকে বললাম।” সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যে প্রার্থীকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করা হয়, তার খেলাপি ঋণের পরিমাণ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এত বিপুল অঙ্কের ঋণ কীভাবে এবং কোন বিবেচনায় দেওয়া হলো-তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওই প্রার্থী যদি নির্বাচনে বিজয়ী হন এবং তার দল সরকার গঠন করে, তাহলে পাওনাদার ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে আদৌ পাওনা আদায় করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দীর্ঘদিন বিরোধী দলে থেকেও যিনি হাজার কোটি টাকার ঋণ নিতে সক্ষম হয়েছেন, তার প্রভাব ও ক্ষমতার মাত্রাও সহজেই অনুমেয়। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনারের ‘মানুষ হিসেবে’ দেওয়া উপদেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

এ প্রেক্ষাপটে বড় প্রশ্ন হলো-ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন আদৌ কি ঋণখেলাপিদের নির্বাচনের বাইরে রাখতে চেয়েছিল? সমালোচকদের মতে, বিদ্যমান আইনেই সংসদে ঋণখেলাপিদের পাঠানোর জন্য কার্যত সব ধরনের সুযোগ রেখে দেওয়া হয়েছে।

আইনের ফাঁকফোকরের একটি উদাহরণ দিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, কোনো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক যদি বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাস বিল বাবদ কোটি কোটি টাকা বকেয়া রাখেন, তবে আইনের চোখে দায়ী থাকে প্রতিষ্ঠানটি, ব্যক্তি নন। ফলে প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলেও মালিক ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচনে অযোগ্য হন না। প্রতিষ্ঠান তো আর নির্বাচনে দাঁড়ায় না-এই যুক্তিতে মালিকের মনোনয়ন বৈধ হয়ে যায়। এমন বাস্তবতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ‘অসহায়ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

বিগত দেড় বছরে আইন সংস্কার হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখা অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ আজ নির্বাচনের অযোগ্য হতে পারতেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বাস্তব প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি বলেও মত দেওয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির দায় শুধু সরকার, নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের নয়-ভোটারদের দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি অনেক রাজনীতিবিদ নিজ নিজ এলাকায় বড় দানবীর হিসেবে পরিচিত। সরকারি বা ব্যাংকের টাকা পরিশোধ না করেই তারা স্থানীয়ভাবে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন, বিশেষ করে নির্বাচনের সময়। এতে ভোটারদের একটি বড় অংশ আকৃষ্ট হয়। ফলে ‘হাতে টাকা, বাক্সে ভোট’-এই বাস্তবতা বদলাতে ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রব্যবস্থা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই টাকাই যে মূলত জনগণের সম্পদ-সে বোধ সমাজে এখনও জাগ্রত হয়নি। এর ফলেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কিন্তু সৎ ও যোগ্য তরুণ প্রার্থীরা শুরুতেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এমন বাস্তবতায় আগামী সংসদের চরিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে।

এদিকে দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীদের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, দ্বৈত নাগরিক কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে বাস্তবে অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমার ঠিক আগে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দায় সেরেছেন। পরবর্তী সময়ে সেই ত্যাগ কার্যকর হয়েছে কি না-তা আর কেউ খোঁজ রাখেনি। আবার কেউ কেউ বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন করেই নির্বাচনের বৈধতা পেয়েছেন।

অতীতেও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও অনেকে বছরের পর বছর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন-এমন নজির রয়েছে। ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যু তুলে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর একে অপরকে আক্রমণ করা অনেকের কাছে আত্মঘাতী বলেই মনে হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বৈত নাগরিক হওয়াটা অপরাধ নয়। অপরাধ হলো-তা গোপন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে মিথ্যা হলফনামা দেওয়া। মনোনয়ন বৈধ হওয়া অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে এমন মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

নির্বাচনের পরও এসব বিষয়ে নাগরিক নজরদারি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া এবং ন্যায়বিচার না মিললে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়ার কথাও উঠে এসেছে। জুলাই বিপ্লবে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের স্বপ্নের পরিবর্তন টিকিয়ে রাখতেই এই লড়াই অব্যাহত থাকবে-এমন প্রত্যয়ও ব্যক্ত করা হয়েছে।


রাজধানীতে পরিচয়হীন মরদেহ, স্বজনের অপেক্ষা শেষ হয় কবরে
রাজধানীতে পরিচয়হীন মরদেহ, স্বজনের অপেক্ষা শেষ হয় কবরে

রাজধানীতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভিড়। অথচ এই শহরেই এমন মানুষের মৃত্যু ঘটছে, যাদের নাম-পরিচয় মৃত্যুর পরও অজানাই থেকে যাচ্ছে। সড়কের পাশে, ফুটপাত, হাসপাতালের গেট, খাল কিংবা নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে অজ্ঞাত মরদেহ। পরিচয় শনাক্তের নানা চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এসব মরদেহ ঠাঁই পাচ্ছে বেওয়ারিশ হিসেবে।বডিডিএমপির প্রকাশ্য নথি ও...

১৩ দিন আগে


জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম জেজেইউর আত্মপ্রকাশ
জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম জেজেইউর আত্মপ্রকাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ও সমর্থনকারী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা ও জনগণের জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান...

১৮ দিন আগে


দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের চিঠি
দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চেয়ে ভারতের ব্যবসায়ীদের চিঠি

ভাষা, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের মিলের কারণে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের অন্যতম প্রতীক পদ্মার ইলিশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ইলিশপ্রেমীদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না বলে দাবি ভারতীয়...

১৯ দিন আগে


মোবাইল ব্যালেন্সে ৫০ হাজার টাকার স্মার্টফোন কেনার সুযোগ
মোবাইল ব্যালেন্সে ৫০ হাজার টাকার স্মার্টফোন কেনার সুযোগ

মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স ব্যবহার করে স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সেবার আওতায় মাসিক খরচের সীমা বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর আগে ডিওবি সেবার মাধ্যমে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ ছিল না।বিটিআরসি কর্মকর্তা ও খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সীমার আওতায় গ্রাহকেরা...

২৫ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom