আন্তর্জাতিক

জামাই থেকে পরিবারের উত্তরসূরি, জাপানের ‘মুকোয়োশি’ প্রথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


জামাই থেকে পরিবারের উত্তরসূরি, জাপানের ‘মুকোয়োশি’ প্রথা

ছবি: সংগৃহীত


ভাবুন, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেলেন জামাই হয়ে। কিছুদিন পর দেখলেন, শুধু স্বামী হিসেবে নয়—পরিবারের নতুন সদস্য হিসেবেও আপনার পরিচয় তৈরি হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির পদবি যুক্ত হয়েছে আপনার নামের সঙ্গে। একসময় পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ এমনকি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা উত্তরাধিকারও এসে পড়েছে আপনার হাতে।

জাপানে এমন ঘটনা একেবারে অচেনা নয়। বরং দেশটির দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থার একটি অংশ হলো মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে পরিবারের ছেলে ও উত্তরসূরি করে নেওয়া। এই প্রথার নাম ‘মুকোয়োশি’। সহজ বাংলায় একে বলা যায় ‘দত্তক ঘরজামাই’।

বিশ্বের অনেক দেশে দত্তক নেওয়ার সঙ্গে শিশুকে নতুন পরিবারে বড় করে তোলার ধারণাই বেশি পরিচিত। জাপানের ক্ষেত্রে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকেও দত্তক নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দত্তক গ্রহণের বড় একটি অংশই প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে।

সাধারণত তরুণ বয়সী পুরুষদের এভাবে পরিবারে নেওয়া হয়। এর পেছনে পারিবারিক আবেগের পাশাপাশি ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকার ধরে রাখার হিসাবও কাজ করে।

ছেলে নেই, তাই জামাইই উত্তরসূরি

জাপানে বহু পুরোনো ব্যবসা এখনো পারিবারিক মালিকানায় পরিচালিত হয়। কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে কিংবা পরিবারের নিজের ছেলেকে ব্যবসার উত্তরসূরি হিসেবে উপযুক্ত মনে না হলে তারা একজন যোগ্য পুরুষকে দত্তক নিতে পারে।

আর সেই ব্যক্তি যদি মেয়ের স্বামী হন, তাহলে বিষয়টি আরও সহজ হয়ে যায়। বিয়ের পর তাকে দত্তক নেওয়া হলে তিনি শ্বশুরবাড়ির পদবি গ্রহণ করতে পারেন। এরপর পরিবারের ব্যবসা, সম্পদ ও উত্তরাধিকারও তার হাতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

অর্থাৎ, সম্পর্কটি শুধু ‘জামাই’তে সীমাবদ্ধ থাকে না। তিনি হয়ে ওঠেন পরিবারেরই একজন—অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী কর্তা।

‘মুকোয়োশি’র অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পারিবারিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। পরিবারের পদবি যেন হারিয়ে না যায়, ব্যবসার নেতৃত্ব যেন পরিবারের বাইরে চলে না যায় এবং বহু বছরের প্রতিষ্ঠান যেন পরবর্তী প্রজন্মেও টিকে থাকে—এসব বিষয় বিবেচনায় এই প্রথার ব্যবহার হয়ে আসছে।

জাপানি সমাজে ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর পদবি গ্রহণ করেন। ফলে কোনো পরিবারে ছেলে না থাকলে পারিবারিক পদবি ধরে রাখার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। মেয়ের স্বামীকে দত্তক নিয়ে তাকে পরিবারের পদবি দেওয়ার মাধ্যমে সেই সমস্যার একটি সমাধান করা হয়।

এভাবে একজন জামাই একই সঙ্গে হয়ে উঠতে পারেন পরিবারের ছেলে, ব্যবসার উত্তরসূরি এবং বংশের নাম বহনকারী।

বড় ব্যবসাতেও রয়েছে ‘মুকোয়োশি’র ছাপ

জাপানের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাসেও এই প্রথার নজির রয়েছে। সুজুকি মোটর করপোরেশন-এর নেতৃত্বে একাধিকবার দত্তক পুত্রের আগমন ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রধান ওসামু সুজুকিও দত্তক হিসেবে পরিবারে আসা একজন উত্তরসূরি ছিলেন।

নিনটেনডো, কিক্কোমান ও টয়োটা-সহ জাপানের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের প্রথার সম্পর্ক দেখা গেছে।

ফলে দেশটির কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ‘মুকোয়োশি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুধু ব্যবসা নয়, সম্পদের উত্তরাধিকারেও

‘মুকোয়োশি’র ব্যবহার ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্ক কাউকে দত্তক নেওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষ করে নিঃসন্তান দম্পতিরা ভবিষ্যতে তাদের সম্পদ কার হাতে যাবে, সেটি নিশ্চিত করতে এই পথ বেছে নিতে পারেন।

দত্তক প্রক্রিয়াটি জাপানের সরকারি পারিবারিক নথি ‘কোসেকি’-তে নিবন্ধিত হয়। দত্তক সম্পন্ন হওয়ার পর ওই ব্যক্তি নতুন পরিবারের পদবি গ্রহণ করতে পারেন এবং জন্মসন্তানের মতো উত্তরাধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন।

এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনাসহ পারিবারিক নানা দায়িত্বও দত্তক নেওয়া সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে।

বিদেশিরাও কি ‘মুকোয়োশি’ হতে পারেন?

প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ব্যবস্থায় বিদেশিদেরও কি জায়গা রয়েছে?

জাপানের আইনি কাঠামোর অধীনে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বিদেশি নাগরিকও প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দত্তক হতে পারেন। তবে বিষয়টি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি শর্তের ওপর।

তবে দত্তক হলেই জাপানের নাগরিকত্ব বা বসবাসের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। এসবের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

জন্মহার কমায় বাড়ছে উত্তরাধিকারীর গুরুত্ব

আধুনিক জাপানে জন্মহার কমে যাওয়ার সঙ্গে এই প্রথার গুরুত্বের নতুন একটি মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেক পারিবারিক ব্যবসার মালিকের সন্তান থাকলেও ছেলে নেই। আবার নিজের সন্তান ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহী বা উপযুক্ত না-ও হতে পারেন।

তখন পরিবারের সামনে প্রশ্ন আসে—শত বছরের ব্যবসা কে চালাবে?

উত্তর খুঁজতে গিয়ে কোনো কোনো পরিবার পুত্রসন্তানের অপেক্ষায় না থেকে একজন উপযুক্ত ‘জামাই’কেই উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয়। এমনকি উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে দেওয়ার জন্য জাপানে বিশেষ ম্যাচমেকিং সেবারও অস্তিত্ব রয়েছে।

এ নিয়ে জাপানে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—‘ছেলে তুমি বেছে নিতে পারো না, কিন্তু জামাই বেছে নিতে পারো।’

বদলে যাচ্ছে সমাজ, টিকে আছে প্রথা

সময় বদলানোর সঙ্গে ‘মুকোয়োশি’ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। আধুনিক জাপানে নারীরা ব্যবসা, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে শুধু পুরুষ উত্তরাধিকারী খোঁজার পুরোনো ধারণা কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তারপরও প্রথাটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

কারও কাছে এটি একজন জামাইকে পরিবারের ছেলে করে নেওয়ার গল্প। কারও কাছে এটি শত বছরের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার কৌশল। আবার কারও কাছে পরিবারের পদবি, সম্পদ ও উত্তরাধিকার পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ব্যবস্থা।

জাপানের ‘মুকোয়োশি’ তাই শুধু দত্তক নেওয়ার গল্প নয়। এর ভেতরে আছে বিয়ে, পরিবার, ব্যবসা, উত্তরাধিকার এবং বদলে যাওয়া সমাজের এক অদ্ভুত সহাবস্থানের গল্প।


ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ফিলিস্তিনিদের: চীন
ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ফিলিস্তিনিদের: চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে চীন। দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং বলেছেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকা উচিত।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে হান ঝেং বলেন, জাতিসংঘের সনদ ও নিরাপত্তা পরিষদের বিধান উপেক্ষা করে কোনো দেশের...

৫ ঘন্টা আগে


মদের দোকানে ঢুকে বোতল নিয়ে পান, ঘুম বানরের
মদের দোকানে ঢুকে বোতল নিয়ে পান, ঘুম বানরের

ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে একটি মদের দোকানে ঢুকে বোতল থেকে মদ পান করে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে একটি বানর। পরে বানরটির তাণ্ডব ও এক কর্মীকে কামড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পুরো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাঁচির ওরমানঝি ব্লকের চৌক এলাকার একটি মদের দোকানে

৬ ঘন্টা আগে


হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা খামেনির সঙ্গে সমন্বিত: পেজেশকিয়ান
হরমুজ প্রণালি খোলার পরিকল্পনা খামেনির সঙ্গে সমন্বিত: পেজেশকিয়ান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি গ্রহণ করে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ...

৬ ঘন্টা আগে


আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত: যুক্তরাষ্ট্র
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বাংলাদেশের সরকারের-এমন অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেটিকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় ‘অস্বস্তির কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। সংকট সমাধানে বাংলাদেশ...

১২ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom