গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে সরকার
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাতারাতি কোনো সমাধান নেই বলে জানিয়েছে সরকার। হঠাৎ জ্বালানি সংকট, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামতে বিলম্ব এবং প্রতিশ্রুত এলএনজি কার্গো না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চলমান সংকটের কারণ চিহ্নিত এবং তা মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি করণীয় নির্ধারণে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও তদারকি টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দ্রুত অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের। গত কয়েক বছরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে অনেক কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। তবে শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃত চাহিদা ৫ হাজার এমএমসিএফডির বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এর বিপরীতে বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২ হাজার ১৯৫ এমএমসিএফডি। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬০৫ এমএমসিএফডি।
সরবরাহ করা গ্যাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসে প্রায় ১ হাজার ৬২৫ এমএমসিএফডি এবং এফএসআরইউয়ের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ৫৭০ এমএমসিএফডি। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন, আবাসিক রান্নাবান্না এবং শিল্পকারখানায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। গ্যাসের সংকটের কারণে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এতে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বেড়েছে লোডশেডিং।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি কিছু নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করছেন এবং শিগগিরই দেশবাসী এর সুফল পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত ছিল প্রায় ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হয়েছে। অবশিষ্ট রয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বর্তমান হারে উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের গ্যাস মজুত নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে দেশীয় গ্যাসের তুলনায় আমদানি করা এলএনজির ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় উৎসের গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৩ টাকা ৩৯ পয়সা। একই পরিমাণ আমদানি করা গ্যাসে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৮ টাকা ৭১ পয়সা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জ্বালানি সংকট নিয়ে বলেন, তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংকট মোকাবিলায় একদিকে স্বল্পমেয়াদে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অন্যদিকে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সবজির বাজারে আগুন কেজিতে ২০০ টাকা টমেটো সবজির বাজারে আগুন কেজিতে ২০০ টাকা টমেটো
রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। অধিকাংশ সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।...
১৫ ঘন্টা আগে
শীতের সবজি বাজারে, দাম চড়া; কমেছে ডিমের দাম
রাজধানীর কাঁচাবাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে সরবরাহ বাড়লেও বেশি দামেই সবজি কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের দাম কমেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০...
৭ দিন আগে
বিশ্ববাজারে ফের কমল সোনার দাম
মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও বন্ডের সুদের হার বাড়ায় বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। টানা এক সপ্তাহের দরপতনে মূল্যবান ধাতুটির দাম বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩৩ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ০৬
১৩ দিন আগে
শিমের কেজি ২০০ বেশি দামে তেল-চিনি-এলপিজি
রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজি হিসেবে শিমের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকটের কারণে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল ও চিনি। এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় কয়েকশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার,...
১৪ দিন আগে
