৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, রাজপথে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি ১১ দলীয় ঐক্যের
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান সরকারের সাড়ে ছয় মাসের মাথায় রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংবিধান সংস্কারে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনে নামছে জোটটি।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে চায় ১১ দলীয় ঐক্য। সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সময়ে বিরোধী দল হিসেবে এটি হতে যাচ্ছে জোটটির সবচেয়ে বড় ও প্রথম কর্মসূচি। পর্যায়ক্রমে আরও তিনটি বিভাগে লংমার্চ শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে দাবি আদায়ে সরকারকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
জোট নেতারা বলছেন, সংসদের পাশাপাশি গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে দেশজুড়ে সভা-সমাবেশ, কর্মসূচি ও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সংস্কারের দাবিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এতে প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংসদের ভেতরে জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়ে তারা সোচ্চার ছিলেন। পাশাপাশি সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে গণরায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার এতে কর্ণপাত না করায় লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
তার ভাষ্য, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা ও ফয়সালা করা সম্ভব, সেসব বিষয় রাজপথে ঠেলে না দেওয়ার জন্য সরকারকে বলা হয়েছিল। কিন্তু সরকার তা উপেক্ষা করায় পরিস্থিতি রাজপথে চলে এসেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট বৈষম্যের প্রতিবাদেও লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চার বিভাগে লংমার্চ, এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ
জানা গেছে, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গত ৬ আগস্ট রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য। সেখান থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবশেষে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কারের পক্ষে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে বারবার বলা হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। তাই জনগণের দাবি জনগণের কাছেই নেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুও যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, এই লংমার্চের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি হবে এবং দাবি-দাওয়ার বিষয়ে জনমত আরও বাড়বে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শাপলা চত্বর থেকে শুরু, শেষ হবে চট্টগ্রামে
১১ দলীয় ঐক্যের প্রথম বড় কর্মসূচি ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টায় সমাবেশের পর লংমার্চ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করার কথা রয়েছে।
লংমার্চের পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ, কুমিল্লার পদুয়ারবাজার, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ বিভিন্ন স্থানে বড় পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি স্থানে ছোট পরিসরে পথসভা হবে। এসব কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।
লংমার্চ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন জোটের নেতারা। একই সঙ্গে লংমার্চের রুট-সংশ্লিষ্ট এলাকার দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ হবে ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম বৃহৎ কর্মসূচি। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, লংমার্চে ছয়-সাতটি পয়েন্টে শীর্ষ নেতারা পথসভা করবেন। এতে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পথে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনও স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হবে বলে জানান তিনি।
লংমার্চের ছয় দফা দাবি
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-
১. গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা।
২. জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
৩. বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন করা।
৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা।
৫. অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা।
৬. প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অভ্যর্থনা, মেডিকেল, পরিবহন, প্রচার ও প্রকাশনা, আইটি, স্বেচ্ছাসেবক, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিভাগ গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি পথ ব্যবহার করে লংমার্চ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং অপর পথটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তবে বিশাল গাড়িবহর ও পথসভার কারণে সাময়িক যানজট বা জনভোগান্তি হতে পারে বলে এ জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংসদের ভেতরেও বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদারের ঘোষণা
রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে আরও সোচ্চার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী দল। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল সংসদে তোলার আগে আপত্তি জানিয়ে বিরোধী দল ওয়াকআউটও করেছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও রাজপথে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোনো বিল পাসের চেষ্টা করা হলে বিরোধী দল তার প্রতিবাদ করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
এদিকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও তা বিস্তৃত করা হবে। পরে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।
সব মিলিয়ে ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে সামনে রেখে ১১ দলীয় ঐক্যের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জোটের নেতারা বলছেন, জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
৬ দফা দাবিতে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, জামায়াতের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।রোববার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত...
৫ ঘন্টা আগে
গুমবিরোধী আইন নিয়ে হাসিনুর রহমানের ক্ষোভ, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না’
প্রণীত গুম সংক্রান্ত আইনের তীব্র সমালোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি বলেন, ‘এই আইনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্ত্রীও প্রমাণ করতে পারবেন না যে, তার
১৭ ঘন্টা আগে
গুম প্রতিরোধ দিবসে স্পিকারের কাছে ১১ দলের স্মারকলিপি
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে এ কর্মসূচি
২০ ঘন্টা আগে
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির শপথ
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি শপথ নিয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।এর আগে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল
১ দিন আগে
