জেলার খবর

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা

অনলাইন ডেস্ক

১ মাস আগে


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা

ছবি: সংগৃহীত


টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও রোববার সকাল থেকে আবারও ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সংকট।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চার উপজেলায় অন্তত আট লাখ মানুষ এখনো বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা। সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে রয়েছে। ফলে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, তাদের ঘরে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। এক সপ্তাহ ধরে রান্না করা সম্ভব হয়নি। মুড়ি-চিড়া খেয়ে দিন কাটছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, পানিবন্দি মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন এলাকায় নৌকার মাধ্যমে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লোহাগাড়ার সদর, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও এখনো প্লাবিত। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে। বড়হাতিয়ার ব্যবসায়ী মো. আলমগীর বলেন, সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য ও প্রবীণদের ওষুধের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে পরিস্থিতি আরও নাজুক। চাম্বল, ছনুয়া, সরল, পুঁইছড়ি, বাহারছড়া, বৈলছড়ি, গণ্ডামারা ও শেখেরখীল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানি ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

বাঁশখালীর ইউএনও মো. রহুল আমিন জানান, ভারী বর্ষণে নতুন করে নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ পর্যন্ত ৬৫ মেট্রিক টন ত্রাণ বিতরণ করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা রহিমা খাতুন বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গার সংকটের পাশাপাশি খাবার ও সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। শিশুদের মধ্যে অসুস্থতা বাড়লেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা মিলছে না।

চন্দনাইশে কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও রোববারের নতুন বর্ষণে আবারও পানি বাড়ছে। শঙ্খ নদ-সংলগ্ন কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

সবজি চাষি রহমত উল্লাহ বলেন, বছরের সবজি আবাদ পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণের বোঝা কীভাবে সামলাবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চন্দনাইশ ইউএনও আবদুর রহমান জানান, উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৪৫ মেট্রিক টন চাল, ১ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার মৎস্যসম্পদ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে প্রায় ২৮ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামী ২৪ ঘণ্টাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নদ-নদীর পানি দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাঈল ভূঁইয়া জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, এরপর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করছে। প্রশাসনের দাবি, প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ মজুত রয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল, নদীর পানি ধীরগতিতে নামা এবং নিম্নাঞ্চলের অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


অবসর সংবর্ধনার আগেই না ফেরার দেশে শিক্ষক, দুপুরে ছিল বিদায় অনুষ্ঠান
অবসর সংবর্ধনার আগেই না ফেরার দেশে শিক্ষক, দুপুরে ছিল বিদায় অনুষ্ঠান

অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। দুপুরে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই আনন্দঘন আয়োজনের আগেই ভোরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন চাঁদপুরের এক প্রধান শিক্ষক।সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে চাঁদপুর শহরের নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে মারা যান...

২ ঘন্টা আগে


বাউফলে খাবারে বিষক্রিয়ায় ৩০ মহিষ অসুস্থ, মৃত্যু ৩
বাউফলে খাবারে বিষক্রিয়ায় ৩০ মহিষ অসুস্থ, মৃত্যু ৩

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম চরে খাবারে বিষক্রিয়ায় ৩০টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অন্য মহিষগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচরে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, চরে মহিষ চড়ানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঁদা দাবি করা...

১৭ ঘন্টা আগে


বাঘারপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, নারীর এক মাসের কা'রা'দ'ণ্ড
বাঘারপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, নারীর এক মাসের কা'রা'দ'ণ্ড

যশোরের বাঘারপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ময়না রায় নামে এক নারীকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বাঘারপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল ইমরান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।দণ্ডপ্রাপ্ত ময়না রায় উপজেলার ছাইবাড়ীয়া

১ দিন আগে


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন, কয়েক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন, কয়েক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দাতিয়ারা এলাকায় পুরাতন বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে সাবস্টেশনটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী

৩ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom