রাজনীতি

সীমান্ত হত্যা ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধুত্ব হয় না: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সীমান্তে হত্যা কিংবা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বাংলাদেশকে কোনো দেশের করদ রাজ্য হিসেবেও দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তন–এ অনুষ্ঠিত ‘শাপলা গণহত্যা: বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বর অভিযান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে সমাজের একটি অংশ নীরব থেকেছে, আবার কেউ কেউ ঘটনাটিকে সমর্থনও করেছে।

তিনি বলেন, “হেফাজতের ১৩ দফা দাবির সঙ্গে কেউ একমত হতে পারেন, আবার দ্বিমতও পোষণ করতে পারেন। কিন্তু দাবি আদায়ে সমবেত জনগণের ওপর সহিংস অভিযান বা হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।”

নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার যথাযথ বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে পরবর্তী সময়ে দেশে সংঘটিত বড় ধরনের সহিংসতা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সংস্কৃতি রোধ করা সম্ভব হতো।

নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এমন ঘটনার পরও তৎকালীন সরকার সংবেদনশীলতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কটূক্তিমূলক অবস্থান নিয়েছিল।

শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকাও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোও যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি তখন আলেমদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় পোশাকধারীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে জঙ্গি বা উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও দাড়ি-টুপি পরিহিত শিক্ষার্থীদের সন্দেহের চোখে দেখা হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে আলেম সমাজের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ইতিহাস রচনায় তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার শেষে শাপলা চত্বরের ঘটনার ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom