আন্তর্জাতিক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে মার্কিন সিনেটে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। পাকিস্তানের সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইরানি সামরিক বিমান অবস্থানের অভিযোগ সামনে আসার পর তিনি এই সংশয় প্রকাশ করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার মার্কিন সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির শুনানিতে গ্রাহাম দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ–এর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি পাকিস্তান ইরানি সামরিক সরঞ্জাম বা বিমান রক্ষায় নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে তারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

শুনানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “আমি পাকিস্তানকে বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করি না। যদি তারা সত্যিই ইরানি সামরিক সম্পদ রক্ষার জন্য নিজেদের ঘাঁটিতে বিমান রাখার সুযোগ দিয়ে থাকে, তাহলে আলোচনার জন্য আমাদের অন্য কাউকে খুঁজতে হবে।”

অভিযোগের সূত্রপাত

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নূর খান এয়ারবেস–সহ কয়েকটি স্থাপনায় ইরানি বিমান অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ঝুঁকি এড়াতে ইরান তাদের কিছু সামরিক সম্পদ পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়েছে।

তবে শুনানিতে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গ্রাহাম বলেন, “এ কারণেই এই ছাইপাশ আলোচনা কোনো দিকেই এগোচ্ছে না।”

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টেও গ্রাহাম লিখেছিলেন, অভিযোগ সত্য হলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

পাকিস্তানের কড়া প্রতিবাদ

অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবেই ইরানি বিমান পাকিস্তানে এসেছিল এবং তা ছিল কেবল লজিস্টিক ও যোগাযোগ–সংক্রান্ত ব্যবস্থা।

ইসলামাবাদের দাবি, ওই বিমানগুলোর সঙ্গে কোনো সামরিক পরিকল্পনা বা সামরিক সম্পদ রক্ষার বিষয় জড়িত নয়। পাকিস্তান নিজেকে “নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক” রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগগুলোকে “বিভ্রান্তিকর ও চাঞ্চল্যকর” বলে বর্ণনা করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও অস্বস্তি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়ছে। কিছু কর্মকর্তার ধারণা, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ওয়াশিংটনের কঠোর বার্তাগুলো যথাযথভাবে পৌঁছে দিচ্ছে না। বরং তারা ইরানের অবস্থানকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।

হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো বলছে, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের প্রস্তাবকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং “নির্বোধ” বলে মন্তব্য করেছেন।

সামরিক চাপ নাকি কূটনীতি

বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের একটি অংশ মনে করছে, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রশাসনের আরেকটি অংশ এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানসহ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ ইরানকে সমঝোতায় ফেরানোর চেষ্টা করছে। তবে তেহরান এখনো আপসহীন অবস্থানে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মাসে ইসলামাবাদ–এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারসহ ১৪ দফা পাল্টা প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকেই আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এখন নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom