আন্তর্জাতিক

‘স্যাটান-২’ ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন পরীক্ষা চালাল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রবাহী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) আরএস-২৮ সারমাত–এর নতুন পরীক্ষা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এটিকে ‘স্যাটান-২’ নামে চিহ্নিত করেছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পরীক্ষাটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ক্ষেপণাস্ত্রটি রুশ সামরিক বাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হবে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় প্রকাশ করা হয়নি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন দাবি করেন, সারমাত বিশ্বের “সবচেয়ে শক্তিশালী” পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হতে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের সমমানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি এবং এর পাল্লা প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার।

তিনি বলেন, সোভিয়েত আমলের ভয়েভোদা আইসিবিএম–এর উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি সারমাত আরও নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। রাশিয়ার দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে পারবে।

পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে সারমাত

রুশ প্রতিরক্ষা শিল্প সূত্রে জানা গেছে, সোভিয়েত আমলের প্রায় ৪০টি ভয়েভোদা আইসিবিএম প্রতিস্থাপনের জন্য সারমাত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০১১ সালে এর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে প্রকল্পটির সব পরীক্ষা সফল হয়নি। ২০২৪ সালে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানায়, উত্তর রাশিয়ার প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম–এর একটি লঞ্চপ্যাডে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ও বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন কেন্দ্র (সিএসআইএস)–এর মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের তথ্যমতে, সারমাতকে ‘হেভি আইসিবিএম’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি প্রায় ১০ টন পর্যন্ত পারমাণবিক বা প্রচলিত পেলোড বহনে সক্ষম।

রাশিয়ার পারমাণবিক আধুনিকায়ন

২০০০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ীর (পারমাণবিক ত্রয়ী) আধুনিকায়ন কর্মসূচি জোরদার করেন। এর আওতায় নতুন ভূমিভিত্তিক আইসিবিএম মোতায়েন, আধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিন সংযোজন এবং পারমাণবিক অস্ত্রবাহী বোমারু বিমান উন্নত করা হয়েছে।

রাশিয়ার এই সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র–ও নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নে বড় আকারের বিনিয়োগ শুরু করেছে।

মস্কোর নতুন প্রজন্মের অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আভানগার্ড হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল, যা শব্দের গতির চেয়ে ২৭ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। এছাড়া রাশিয়া ওরেশনিক নামের নতুন মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও এগিয়ে নিচ্ছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন পোসাইডন ডুবো ড্রোন এবং ক্ষুদ্র পারমাণবিকচালিত বুরেভেস্টনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেই রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আমেরিকান বিজ্ঞানীদের ফেডারেশন–এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার কাছে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০টির বেশি সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা এবং তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom