রাজনীতি

এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তারে নতুন গতি, বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য

অনলাইন ডেস্ক

৭ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই বিরোধী জোটের শরিক হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে দলটি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তৃণমূলেও দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিপি।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এনসিপি ইতোমধ্যে পাঁচ দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের নেতাদের দলে যুক্ত করেছে। সামনে আরও কয়েক দফায় নতুন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের কাজও জোরদার করা হয়েছে।

‘জুলাই শক্তির ঐক্য’ গড়ার চেষ্টা

চট্টগ্রামে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন,
“যে যেখান থেকেই আসুক, এনসিপির পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

এর আগে ঢাকায় আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এনসিপির ছায়াতলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে।

দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এনসিপিতে যোগদানের প্রবণতা এখন শুধু কেন্দ্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তৃণমূলেও তা ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা দলটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

তার ভাষায়,
“জনগণের মধ্যে এনসিপির প্রতি অভাবনীয় সমর্থন রয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে আমরা এখনো সেই মাত্রার সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করাতে পারিনি। এখন সেটিই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তুতি

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এনসিপির উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। এতে শিক্ষাবিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিষদের সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জন হতে পারে বলে জানা গেছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন,
“আমরা সিনিয়রদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাই। তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক বিস্তার

এনসিপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বলছেন, দলটির লক্ষ্য হচ্ছে কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে আহ্বায়ক কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটিতে ২০০-এর বেশি সদস্য রয়েছেন এবং পলিটিক্যাল কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১২।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন,
“জুলাই শক্তিগুলোর ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে। মানুষের মধ্যে এনসিপি নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত শক্তিশালী করা।”

যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন,
“মধ্যপন্থি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে এনসিপিকে অনেকে সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে দেখছেন। দেশপ্রেমী ও সংস্কারপন্থি যে কেউ এনসিপিতে আসতে চাইলে আমরা স্বাগত জানাব।”

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠন

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠন করা হচ্ছে। জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, নারীশক্তিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দলিত, হরিজন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ‘জাতীয় জনজাতি জোট’, প্রতিবন্ধী নাগরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক শক্তি’ এবং প্রবাসীদের জন্য ‘গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেল’ গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসে ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবকশক্তি’ ও ‘জাতীয় কৃষকশক্তি’র আত্মপ্রকাশেরও প্রস্তুতি চলছে।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন বলেন,
“আমরা দ্রুত থানা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত করতে চাই। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই এখন লক্ষ্য।”

বিভিন্ন দল থেকে যোগদানের ধারা অব্যাহত

গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্ম থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।

গত ১৯ এপ্রিল আপ বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং এবি পার্টি থেকে ৩০ জনের বেশি নেতা এনসিপিতে যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত এবং এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক।

পরবর্তীতে যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং জুলাই আন্দোলনের নেতা মহিউদ্দিন রনি-সহ আরও অনেকে দলে যোগ দেন।

সবশেষ শুক্রবার এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী যোগ দেন। রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

আরিফুল ইসলাম আদীব জানান,
“৩৫ জনের নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী আজ যোগদান করেছেন। উত্তরার আরও প্রায় ১০০ পোশাক শ্রমিক শিগগিরই এনসিপির শ্রমিক সংগঠনে যুক্ত হবেন।”

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom