রাজনীতি

আমাকে জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার প্রোডাক্ট বলা হয়েছিল: তাসনিম জারা

অনলাইন ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


তাসনিম জারা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ট্যাগিং ও অপবাদ দেওয়ার সংস্কৃতি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত তাসনিম জারা অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি-র পক্ষে একটি পোস্ট শেয়ার করার পর তাকে সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলন চলাকালে “একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর” স্লোগানের সমালোচনা করায় তাকে জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার ‘প্রোডাক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তার ভাষায়, তখন তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং কেউ কেউ তাকে “ক্রসফায়ারে” দেওয়ার কথাও বলেছিল। এখন আবার একই ধরনের ভাষায় তাকে “শাহবাগী”, “বাম”, “ইসলামবিদ্বেষী” বা “বিদেশি এজেন্ট” বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা জানান, সম্প্রতি তিনি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন, যেখানে ইমি দাবি করেছিলেন, কারাগারে তাকে ইঙ্গিতপূর্ণ ও মানসিকভাবে আঘাতমূলক মন্তব্য শুনতে হয়েছে। ইমির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ কারাবাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, “ইমি এমন ভয়ংকর কেউ নন যে জননিরাপত্তার জন্য তাকে কারাগারে আটকে রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি “পোস্ট-আইডিওলজিক্যাল” রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে মতভিন্নতার কারণে কাউকে ট্যাগ বা অপমান করা হবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন।

স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা দাবি করেন, বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্বিমতকে দেশদ্রোহ, সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র এবং ভিন্ন মতকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন,
“যে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা হয়েছে, তার সবচেয়ে চেনা চেহারা ছিল এটাই। সেই একই ভাষা ও ট্যাগ যদি নতুন মোড়কে ফিরে আসে, তাহলে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নষ্ট হবে।”

মধ্যপন্থা নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“মধ্যপন্থা মানে নীতিহীনতা নয়। মানুষকে পরিচয়ের বাক্সে আটকে না ফেলে তার যুক্তি ও কাজ দিয়ে বিচার করতে হবে।”

সবশেষে তিনি বলেন, সভ্য সমাজে কাউকে “জবাই করার ডাক” দেওয়া, বিনা বিচারে আটকে রাখা বা ভিন্নমতকে দেশদ্রোহ হিসেবে আখ্যা দেওয়া গ্রহণযোগ্য হতে পারে না এবং তিনি অতীতের মতো এখনও সেই অবস্থানেই অটল আছেন।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom