রাজনীতি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নয়: মারদিয়া মমতাজ

অনলাইন ডেস্ক

২১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


মারদিয়া মুমতাজ বলেছেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। কোনো নীতি বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডিজি-র জন্য নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭৩ হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে মাত্র ১০ হাজার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “এটি শুধু অর্থের সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যর্থতা। অর্থের অভাব হলে বেতন দেওয়া যেত না, কিন্তু এখানে নিয়োগ প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হচ্ছে না।”

মারদিয়া মুমতাজ স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি) নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও এসএমসিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকই এসএমসির প্রধান থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইংলিশ মিডিয়াম ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় ন্যূনতম মান বজায় না রেখেই ছোট ছোট ভবনে স্কুল ও মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে।

ফাজিল ও কামিল ডিগ্রিধারীদের চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কাগজে এসব ডিগ্রি সমমান হলেও বাস্তবে অনেক চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয় না। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে।

স্কুল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পরিবেশ ও উপকরণভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর জোর দেন এই সংসদ সদস্য। একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলে একই ধরনের নকশা প্রয়োগ না করে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভবন নির্মাণ করলে খরচ কমবে এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

তিনি শিক্ষকদের জন্য ট্যাব বিতরণের পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য স্টেশনারি, পোস্টার ও সৃজনশীল উপকরণ সরবরাহ বেশি কার্যকর হতে পারে।

কোচিং বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন, স্কুলের শিক্ষকরা অতিরিক্ত ক্লাস স্কুলেই নেবেন এবং এর ব্যয় সরকার বহন করবে। তবে ব্যক্তিগত কোচিং বা টিউশন বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom