তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী: দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
তৃণমূলের রাজনীতি থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছাত্রজীবনে বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কর্মজীবনে ছিলেন অর্থনীতির শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।
৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব-বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতির হাতেখড়ি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় তিনি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ের রাজনৈতিক আন্দোলন ও ছাত্রসমাজের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর মির্জা ফখরুল শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা করার পর তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন।
সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে
১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। তবে সরকারি চাকরির স্থায়ী ক্যারিয়ার বেছে না নিয়ে ১৯৮৬ সালে তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
এর দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে তার এই সাফল্য জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে তার পথ আরও প্রশস্ত করে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। এরপর দলের সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন।
সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে যাওয়ার আগে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন মির্জা ফখরুল। সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি সরকারের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হন। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে
দলের সাংগঠনিক দায়িত্বে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়ে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
এরপর ২০১১ সালের ২০ মার্চ তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় পাঁচ বছর এই দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকে টানা দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল।
কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব
বিএনপির ইতিহাসের অন্যতম কঠিন ও সংকটময় সময়ে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মির্জা ফখরুল। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি নানা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করায় দেশে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনের কারণে একাধিকবার কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন, দলীয় কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তার ভূমিকা বিএনপির রাজনীতিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যায়।
এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে
দলের মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির পক্ষ থেকে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পারিবারিক ও ব্যক্তিজীবন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী এবং পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যও হন এবং এরশাদ সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার মা মির্জা ফাতেমা আমিন।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে মির্জা ফখরুল ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম এবং দুই কন্যা মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহকে নিয়ে তার পরিবার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
ছাত্রনেতা থেকে শিক্ষক, শিক্ষক থেকে সরকারি কর্মকর্তা, এরপর পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব-দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জমা পড়েছে তিন মনোনয়নপত্র
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।ইসি সিনিয়র সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি পদে জমা পড়া তিনটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে এবং দুটি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বীর বিক্রমের
১ ঘন্টা আগে
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ১৮ জন ব্যক্তি বিভিন্ন মেয়াদে মোট ২২ বার রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি তাদের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক...
১ ঘন্টা আগে
১৫ আগস্ট ঘিরে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
১৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকায়...
২ ঘন্টা আগে
অবৈধ অটোরিকশার কারণে হঠাৎ বেড়েছে বিদ্যুতের চাহিদা: জ্বালানিমন্ত্রী
অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সেগুলোতে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার কারণে এমন একটি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা তৈরি হয়েছে, যা আগে
৪ ঘন্টা আগে
