সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ, এবার বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাল্টা অভিযোগ
দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স
ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মুঠোফোনে হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে তিন সাংবাদিককে মারধর এবং কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা।
বুধবার রাতে পালং মডেল থানায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেন আরিফুজ্জামান মোল্লা। অন্যদিকে, তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তা মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।
এ ঘটনায় শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের একাংশের অভিযোগ, হামলা ও হুমকির ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অশোভন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটির একটি অংশ।
একই ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, তিন সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় সাংবাদিক বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন।
ওসি জানান, দুটি অভিযোগই পুলিশ খতিয়ে দেখছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী মামলা নথিভুক্ত করা হবে।
তবে সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিরোধের সূত্রপাত প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙাকে কেন্দ্র করে
শরীয়তপুরে চলমান বিরোধের সূত্রপাত হয় শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, শনিবার রাতে কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান।
এর পরদিন রোববার সকালে বিএম ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় ওই দিন বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন। এ সময় জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের দাবিতে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ করেন। সাংবাদিকদের এ কর্মসূচির পর বিএনপির একটি পক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকেরা।
পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব এবং কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরে তারা পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেওয়া হয় এবং ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ কর্মসূচির মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন।
তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ
বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন, জাগো নিউজ ও খবরের কাগজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিন ও মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমানসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন।
হামলার পর সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন ও সহকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, ওই দিন বিকেলে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেন।
সাংবাদিককে হুমকির অডিও থাকার দাবি
জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানকে মুঠোফোনে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
সাংবাদিকদের দাবি, ওই অডিওতে আরিফুজ্জামান মোল্লার কণ্ঠসদৃশ একজনকে সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি দিতে এবং তাদের ‘তালিকায়’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়।
তবে অডিওটির সত্যতা ও কণ্ঠের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযোগ নথিভুক্ত না হওয়ার অভিযোগ সাংবাদিকদের
রোববার সকালে হামলার শিকার সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল পালং মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পলাশ সরদারসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে পলাশ সরদারও বিএম ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এরপর বুধবার সন্ধ্যায় মানবকণ্ঠ ও দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমান এবং যুবলীগের কর্মী রুবেল মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন সাংবাদিক সাধারণ ডায়েরি করার জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বরকত মোল্লার অভিযোগ, মামলা করার জন্য থানায় গেলে ওসি তাদের এড়িয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষা করার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসতে হয়েছে বলে জানান বরকত মোল্লা।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকেসহ অন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখাচ্ছেন।’
নিরাপত্তাহীনতায় শরীয়তপুরের সাংবাদিকরা
সাংবাদিকদের অভিযোগ, একদিকে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার ঘটনা, অন্যদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলা, পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভ এবং কয়েকজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
এখন টিভির শরীয়তপুর প্রতিনিধি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, বিনা নোটিশে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরপর সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির একটি পক্ষের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, তিন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। এরপরও সাংবাদিকদের অব্যাহতভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তার অভিযোগ, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যদি হামলা বা হুমকির শিকার হন এবং এর যথাযথ প্রতিকার না হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের উদ্বেগ
শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা কোনোভাবেই হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হতে পারেন না। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নুরুল আমিন আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিএনপির বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপিও প্রতিবাদ করেছে।’
তবে বিএনপির কোনো নেতা সাংবাদিকদের মারধর করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, একজন নেতা রাগের মাথায় একজন সাংবাদিককে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে হামলা ও হুমকির অভিযোগ দেওয়ার পর বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লার পক্ষ থেকে কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলা ও হুমকির ঘটনায় তারা যখন নিরাপত্তা এবং আইনি প্রতিকার চাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে আরিফুজ্জামান মোল্লার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের অবস্থান
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ এবং বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ—দুটিই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—দুই পক্ষের অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।
তদন্তের অপেক্ষায় দুই পক্ষ
শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ—দুই ঘটনাই এখন তদন্তাধীন। একই ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে আলোচনা চলছে।
সাংবাদিকদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা বা হুমকির ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের একটি অংশের আচরণ নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন পুলিশের তদন্তে হামলা, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু পাওয়া যায় এবং এর ভিত্তিতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৌশলে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন ও দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ চক্রের খপ্পরে পড়ে এক শিক্ষার্থী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে...
১ ঘন্টা আগে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সামলাতেই বিরোধীদলের ৯০ এমপির ‘কান্নাকাটি’: রাশেদ খাঁন
একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সামলাতেই বিরোধীদলের ৯০ জন সংসদ সদস্য ‘কান্নাকাটি’ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এমপিদের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন এসব মন্তব্য করেন।স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লেখেন,...
১৩ ঘন্টা আগে
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ করেন: রুমিন ফারহানা
দেশের চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ করেন অথবা বাকচাতুর্যের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেন।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে...
১৪ ঘন্টা আগে
গান-বাজনা বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হাসনাতের প্রশ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে গত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না, তা জানতে চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,...
১৭ ঘন্টা আগে
