জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, নিরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, নিরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত


দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরকারি মূল্যের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দামে যন্ত্রপাতি কেনা, অতিরিক্ত বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বিশেষ নিরীক্ষায়। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের (ফাপাড) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে।

একই সঙ্গে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা কিংবা অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকল্প কার্যালয়ে সংরক্ষিত নেই।

যন্ত্রপাতি কেনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যয়

বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনায় বড় ধরনের মূল্য অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

নিরীক্ষকদের হিসাবে, এসব সরঞ্জামের সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা। অথচ একই সরঞ্জাম কেনায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, শুধু এই খাতেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা।

একটি ভবনের ক্ষেত্রেই উচ্চ ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম, ট্রান্সফরমার, নিম্ন ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, পাওয়ার ফ্যাক্টর কারেকশন প্যানেল এবং জেনারেটরের সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কিন্তু একই সরঞ্জামের জন্য বিল করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ১৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

২৩০টি অডিট আপত্তি

ফাপাডের তথ্য অনুযায়ী, ৯ অর্থবছরে প্রকল্পটির বিরুদ্ধে মোট ২৩০টি অডিট আপত্তি তোলা হয়েছে।

প্রথম পাঁচ অর্থবছরে ৪১ হাজার ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৮ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম শনাক্ত হয়। ওই বছর ১৬ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ১৫ হাজার ২০৭ কোটি টাকার অডিট আপত্তি তোলে সংস্থাটি।

গ্রিন সিটি প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোট ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টিই এই আবাসন প্রকল্পের নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত।

নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দরপত্রে কিছু যন্ত্রপাতির মূল্য কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, আবার অন্য কিছু পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে মোট দরকে গ্রহণযোগ্য রাখা হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের আড়ালে অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বালিশকাণ্ডেও কোটি টাকার ক্ষতি

বিশেষ নিরীক্ষায় বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-এর তথ্যও উঠে এসেছে।

প্রকল্পে মোট ৪ হাজার ৭০২টি বালিশ কেনা হয়। এর মধ্যে ৬০টি বালিশের প্রতিটির মূল্য ধরা হয় ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। বালিশগুলোর প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, অথচ ক্রয় করা হয় ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। এতে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিন সিটির ২০টি আবাসিক ভবনের নির্মাণ ও ক্রয় কার্যক্রমে মোট ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আইএমইডির পর্যবেক্ষণ

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের প্রথম ইউনিট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারেনি এবং দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের বিলম্বের আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ২০১২ সালের ডিসেম্বরের পর আর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি।

এ অবস্থায় দ্রুত হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা সংগ্রহ, অসমাপ্ত কাজের তালিকা প্রস্তুত এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

বিশেষজ্ঞদের মত

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণে বড় ধরনের দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোরও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের চিঠি এখনও পায়নি ইসি
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের চিঠি এখনও পায়নি ইসি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো...

৬ ঘন্টা আগে


‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ভিত্তি’: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ভিত্তি’: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার মেধা, প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার মাধ্যমে একটি ব্যর্থ রাজনৈতিক আন্দোলনকে ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে রূপান্তর করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের...

৭ ঘন্টা আগে


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জল্পনা

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন-এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নামও আলোচনায় এসেছে।বুধবার (২২ জুলাই) আল-জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।পোস্টে তিনি দাবি করেন, আগামী কয়েক দিনের

৮ ঘন্টা আগে


জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্বে শেখ রবিউল আলম
জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্বে শেখ রবিউল আলম

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, সমন্বিত বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ

১৩ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom