সারাদেশ

নরসিংদীতে কেজি দরে কোরবানির গরু বিক্রি, খামারমুখী ক্রেতারা

অনলাইন ডেস্ক

১৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নরসিংদীজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু, মহিষ ও ছাগল মোটাতাজাকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কাঁচা ঘাস, খড়, ভুষি ও প্রাকৃতিক দানাদার খাদ্যে লালন-পালন করা পশুগুলো বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে।

এবার জেলার কয়েকটি খামারে নতুনভাবে চালু হয়েছে লাইভ ওয়েট বা ওজন অনুযায়ী কেজি দরে গরু বিক্রির ব্যবস্থা। এতে ক্রেতারা সরাসরি গরুর ওজন অনুযায়ী মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। খামারিদের দাবি, এ পদ্ধতিতে প্রতারণার ঝুঁকি কমছে এবং তুলনামূলক স্বচ্ছভাবে পশু কেনাবেচা সম্ভব হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারের মালিক ও কর্মচারীরা। নিয়মিত গোসল করানো, প্রাকৃতিক খাদ্য সরবরাহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাসহ নানা কাজে ব্যস্ত তারা।

খামারিদের পাশাপাশি জেলার অনেক কৃষকও পারিবারিকভাবে লাভের আশায় কোরবানির পশু লালন-পালন করছেন। ঈদের ৬ থেকে ১১ মাস আগে দেশের বিভিন্ন পশুর হাট থেকে গরু, মহিষ ও ছাগল কিনে এনে পালন শুরু করেন তারা। এবার নরসিংদীর বিভিন্ন খামারে শাহীওয়াল, সিন্ধি, দেশাল, ফ্রিজিয়ান, ক্রস ও ব্রাহমা জাতের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে।

খামার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ পশু মোটাতাজা করায় নরসিংদীর গরুর চাহিদা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও বাড়ছে। এছাড়া হাটের ভোগান্তি এড়িয়ে সরাসরি খামার থেকে পশু কেনা এবং ঈদের আগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

নরসিংদীর হাম্বা ফার্মসহ কয়েকটি খামারে দেশীয় কোরবানির গরু ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খামারের পরিচর্যাকারী সোহেল বলেন, “আমরা প্রতিদিন তিন বেলা গরুকে প্রাকৃতিক দানাদার খাবার খাওয়াই। দুই বেলা গোসল করানো হয়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। ক্রেতারা গরু পছন্দ করার পর ঈদের আগে তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।”

খামারিদের মতে, এবার বড় আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। জেলার বিভিন্ন খামারে ৩৫০ কেজি থেকে ১১০০ কেজি পর্যন্ত গরু রয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে।

হাম্বা ফার্মের ম্যানেজার ফারুক ইসলাম বলেন, “এ বছর আমরা ২২০টি গরু প্রস্তুত করেছি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্যে এগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমরা ৬৫০ টাকা কেজি দরে গরু বিক্রি করছি এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”

অন্যদিকে গ্রীন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান আহসান শিকদার জানান, তাদের খামারে ২০০ কেজি থেকে ১২০০ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। তিনি বলেন, “৪০০ কেজির নিচের গরু ৫৫০ টাকা এবং ৫০০ কেজির বেশি গরু ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ক্রেতারা খামারে এসে গরু দেখে পছন্দ করছেন, পরে ঈদের আগে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।”

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, খামারিদের দেশীয় পদ্ধতিতে নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যে ক্ষতিকারক স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ছাইফুল ইসলাম বলেন, “খামারিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণ নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর নরসিংদীর ছয় উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ৮৫ হাজার ৯০৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে জেলার চাহিদা ৭৮ হাজার ৬৪৫টি। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ২৬০টি পশু পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা পূরণে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খামারিদের প্রত্যাশা, বাইরে থেকে অতিরিক্ত পশু প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং বাজার স্থিতিশীল থাকলে এবার কোরবানির মৌসুমে ন্যায্য মূল্য পেয়ে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom