সারাদেশ

বরগুনায় খাল খননে ফিরছে পানির প্রবাহ, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক

২২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


সারা দেশের মতো বরগুনাতেও চলছে খাল খননের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে যাওয়া মরা খালগুলো পুনর্খননের ফলে আবারও ফিরতে শুরু করেছে পানির প্রবাহ। এতে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বরগুনায় এখন পর্যন্ত ৬০৯টি খাল শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো খনন বা পুনর্খননের প্রয়োজন। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৬৭ কিলোমিটার। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৯টি খালের ২৯ কিলোমিটার খনন কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ কিলোমিটার খনন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, খালগুলো খনন করা হলে বরগুনার এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপ নেবে। বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা কমবে, আবার শুকনো মৌসুমে সেচের জন্য পানি পাওয়া যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে উৎপাদন ব্যয়ও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা সদর, বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলায় ১৫৯টি খালের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার খননের জন্য একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া তালতলী উপজেলায় আরও ৪০টি খালের ১২৫ কিলোমিটার পুনর্খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ ক্রোক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পলিমাটি ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে থাকা ক্রোক খালের পুনর্খনন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে খনন হওয়া অংশে পানির প্রবাহ শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা সেই পানি সেচকাজে ব্যবহারও করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুর-ই আলম বলেন, “আগে বৃষ্টি হলেই খেতে পানি জমে ফসল নষ্ট হতো। এখন খাল খনন হওয়ায় কৃষিকাজে অনেক সুবিধা হবে।”

কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, “আগে পানি জমলে নামাতে পারতাম না, আবার প্রয়োজনের সময় পানিও পেতাম না। এখন খাল সচল হলে দুই সমস্যারই সমাধান হবে।”

ইসহাক হাওলাদার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “আগে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হতো। এখন খাল সচল থাকলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাবে, আবার প্রয়োজনের সময় সেচের পানিও পাওয়া যাবে।”

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. আনিসুর রহমান বলেন, “খালটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। এখন খনন শেষ হলে কৃষিকাজে বড় ধরনের সুবিধা হবে। আগে যেখানে একবার ফসল হতো, এখন সেখানে দুই থেকে তিনবার চাষ করা সম্ভব হবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “খাল খনন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বরগুনার কৃষিতে বড় পরিবর্তন আসবে। জলাবদ্ধতা কমবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষকের আয়ও বাড়বে।”

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “উপকূলীয় জেলা বরগুনায় মিষ্টি পানির সংকট রয়েছে। খালগুলো খনন করে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি ও মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় অনেক খাল পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে, আবার কিছু খাল দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব হারিয়েছে। তাই ধাপে ধাপে সব খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom