মহানবী (সা.)-এর জীবনে ক্ষমা ও উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত
দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স
ছবি: সংগৃহীত
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ক্ষমা, দয়া, সহনশীলতা ও উদারতার অনন্য দৃষ্টান্ত। যারা তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে, নির্যাতন করেছে কিংবা শত্রুতা পোষণ করেছে, তাদের অনেককেই তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করেছেন। তাঁর জীবনের এসব ঘটনা আজও মানবতার জন্য শান্তি, সহনশীলতা ও ক্ষমার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
তায়েফে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে মহানবী (সা.) চরম নির্যাতনের শিকার হন। তায়েফবাসী তাঁকে পাথর মেরে আহত করলেও তিনি তাদের জন্য বদদোয়া করেননি। বরং ভবিষ্যতে তাদের বংশধরদের মধ্য থেকে সত্যের অনুসারী মানুষ আসবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর এই আচরণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ও মানবিকতার অনন্য উদাহরণ।
মক্কা বিজয়ের সময়ও মহানবী (সা.) প্রতিশোধের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমার পথ বেছে নেন। দীর্ঘদিন যারা তাঁর ও মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছিল, তাদের অনেককেই তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তাঁর এই উদারতা মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ইসলামের প্রতি বহু মানুষের আকর্ষণ তৈরি হয়।
শুধু অনুসারীদের নয়, অমুসলিমদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। কারও ওপর জুলুম করা, অধিকার নষ্ট করা কিংবা সম্পদ আত্মসাৎ করার বিষয়ে তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। একইভাবে ভুলকারী ব্যক্তিদের সংশোধনের ক্ষেত্রেও তিনি কঠোরতার পরিবর্তে কোমল ও শিক্ষামূলক আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
একবার এক বেদুইন মসজিদে ভুলবশত প্রস্রাব করলে সাহাবিরা তাকে বাধা দিতে উদ্যত হন। কিন্তু মহানবী (সা.) তাদের থামিয়ে দেন এবং স্থানটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। পরে ওই ব্যক্তিকে কোমলভাবে বিষয়টি বোঝান। এ ঘটনা থেকে ভুল সংশোধনে ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সুন্দর আচরণের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা থেকেও মহানবী (সা.)-এর অসাধারণ ধৈর্য ও কোমলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর মহানবী (সা.)-এর সেবা করেন। এ সময়ে কোনো কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি আনাস (রা.)-কে তিরস্কার করেননি।
ইসলামী শিক্ষায় ক্ষমাকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ পরিহারের মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে এ শিক্ষা পাওয়া যায়—অন্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধের পরিবর্তে ক্ষমা, সংশোধন ও মানবিকতার পথ বেছে নিলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে যখন ব্যক্তি ও সমাজজীবনে অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষ ও সংঘাত বাড়ছে, তখন মহানবী (সা.)-এর ক্ষমা, দয়া ও সহনশীলতার আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জোরদার করা গেলে পরিবার থেকে সমাজ—সব ক্ষেত্রেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
জুমার দিনে যে ১০ আমল করবেন
ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। তাই শুধু জুমার নামাজ আদায় নয়, বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে দিনটি কাটানো উত্তম।মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا...
২ ঘন্টা আগে
শরিয়াহবিরোধী আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না: আব্দুল মালেক
বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক বলেছেন, কোরআন ও হাদিসবিরোধী কোনো আইন সংবিধানে থাকলে তা সংশোধন বা বাতিল করতে হবে। শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ...
১ দিন আগে
‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনাকে ভালো না বেসে কি থাকা যায়?’
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী।ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আপনাকে কী করে ভালো না বেসে থাকতে পারি, ইয়া রাসূলাল্লাহ? আপনি তো আমাকে না দেখেও ভালোবেসেছিলেন সেই ১৪০০
১ দিন আগে
ঈদে মিলাদুন্নবী: ইসলামে এর অবস্থান কী? কোরআন-হাদিস ও আলেমদের মতভেদ
মিলাদুন্নবী’ বলতে কী বোঝায়?‘মিলাদ’ অর্থ জন্ম। মিলাদুন্নবী বলতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করাকে বোঝানো হয়। সাধারণত রবিউল আউয়াল মাসে বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন, চরিত্র, সুন্নাহ ও সীরাত নিয়ে আলোচনা করা হয়।তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে মতভেদ আছে। ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত...
৪ দিন আগে
