জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: ইতিহাস, স্মৃতি ও গণঅভ্যুত্থানের সাক্ষ্য বহনকারী নতুন প্রজন্মের ঠিকানা
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় যেন প্রমাণ করল—ইতিহাসকে কাছ থেকে জানার আগ্রহ কখনো থেমে থাকে না। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর থেকেই শত শত মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ভিড় করেন সদ্য উদ্বোধন হওয়া ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এক সময়ের সরকারি বাসভবন গণভবনের এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ১৭ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের নানা স্মৃতি, দলিল ও ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই জাদুঘর।
সবুজে ঘেরা স্মৃতির প্রাঙ্গণ
জাদুঘরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সুবিশাল সবুজ চত্বর, জলাধার, ছায়াঘেরা বৃক্ষরাজি এবং নান্দনিক পথ। বৃষ্টিভেজা পরিবেশে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন আবহ। পথের ধারে রয়েছে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন আলোকচিত্র, গ্রাফিতি এবং ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ সংবলিত তথ্যফলক।
জুলাই বিপ্লবে নিহত তরুণদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য, লাল ইটের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং উন্মুক্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। বিভিন্ন দেয়ালে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় আঁকা গ্রাফিতি এবং আন্দোলনের স্লোগান এখনো বহন করছে সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতি।
প্রতীকী ভাস্কর্যে জীবন্ত ইতিহাস
জাদুঘরের খোলা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন প্রতীকী ভাস্কর্য। গুলিবিদ্ধ রিকশাচালক, সাঁজোয়া যানে ঝুলে থাকা আন্দোলনকারী, সাইকেল চালিয়ে মিছিলে যাওয়া স্কুলছাত্রীসহ নানা শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের আবেগাপ্লুত করছে।
বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক ‘লাল টেলিফোন’, যেখানে দর্শনার্থীরা আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন কথোপকথন শুনতে পারছেন। এছাড়া ‘আয়নাঘর’-এর প্রতিরূপ এবং বিভিন্ন নির্যাতনের প্রতীকী উপস্থাপনাও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
প্রধান ফটকের পাশে নির্মিত হয়েছে ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত ‘জুলাই মেমোরিয়াল’, যেখানে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের নাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবুজ ঘাসে ঘেরা প্রতীকী কবরগুলো দর্শনার্থীদের গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে।
নিচতলায় নির্যাতনের নির্মম দলিল
মূল ভবনের নিচতলায় স্থান পেয়েছে বিগত সময়ের গুম, খুন ও নির্যাতনের নানা তথ্য, আলামত ও দলিল। প্রবেশ করতেই বড় ডিসপ্লে স্ক্রিনে চলতে থাকে বিভিন্ন ভিডিওচিত্র।
ঐতিহাসিক ‘কল রুম’-এর ক্ষতচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে বিশেষ কাচের মাধ্যমে। পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে নির্যাতনের বিভিন্ন সরঞ্জাম, গোপন নথিপত্র, ক্রসফায়ারের তথ্য এবং আলোচিত লাল টেলিফোন।
দোতলায় জুলাই আন্দোলনের স্মারক
জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্মারক, শহীদদের ব্যবহৃত পোশাক, বই-খাতা এবং ব্যক্তিগত নানা স্মৃতিচিহ্ন।
এখানে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক ‘ইমার্সিভ প্রজেকশন রুম’, যেখানে ৩৬০ ডিগ্রি ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন দর্শনার্থীরা নিজেরাই সেই ঘটনার অংশ হয়ে উঠছেন।
দর্শনার্থীদের অনুভূতি
পরিবার নিয়ে জাদুঘর ঘুরতে আসা সরকারি কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত ইতিহাস যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও হৃদয়স্পর্শী। তার মতে, নতুন প্রজন্মের ইতিহাস জানার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থী সাদাত চৌধুরী রাফি বলেন, মাত্র ৫০ টাকার টিকিটে এমন একটি ঐতিহাসিক জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। প্রবীণ দর্শনার্থীরাও জাদুঘরের পরিবেশ ও উপস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
টিকিট ও দর্শন সময়
জাদুঘরের মূল ভবনে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন। দর্শনের জন্য তিনটি শিফট নির্ধারণ করা হয়েছে-
সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা
দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা
বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা
প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা। টিকিট কাউন্টার কিংবা অনলাইন-উভয় মাধ্যমেই সংগ্রহ করা যাবে। মূল ভবন পরিদর্শনের পর দর্শনার্থীরা প্রাঙ্গণ, পুকুরপাড় কিংবা ক্যাফেটেরিয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই অবস্থান করতে পারবেন।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়; এটি গণঅভ্যুত্থান, আত্মত্যাগ এবং ইতিহাস সংরক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও স্মৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ডেপুটি স্পিকার
বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীসহ যে কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ক্ষুদ্র...
৪৭ মিনিট আগে
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। জাপান সফরে বিনিয়োগ ও জনশক্তি রপ্তানি, তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ এবং সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।বডি:কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরের সম্ভাবনা রয়েছে...
১ ঘন্টা আগে
পাটওয়ারীর বক্তব্যের জবাব দিতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে ‘অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ধরনের বক্তব্যের কোনো জবাব তিনি দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছিলেন, সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে নিলে...
১৮ ঘন্টা আগে
‘ডিসেম্বর নয়, এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে’: ইয়াসের খান চৌধুরী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে। অনলাইনে বক্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর শহরের স্টেশন রোডে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে...
১ দিন আগে
