জাতীয়

অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে চীনের বিনিয়োগে জোর, ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

৪ মাস আগে


অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে চীনের বিনিয়োগে জোর, ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত


অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের বৃহৎ বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে চায় ঢাকা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত বহন করে। মালয়েশিয়া সফরের পর চীন সফরকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন নির্বাচিত নেতাদের প্রথম বিদেশ সফর সাধারণত ভারতে হলেও তারেক রহমানের বেইজিং সফরকে অনেকেই দিল্লির প্রতি একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীন সফরে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, মংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পকে ঘিরে ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে শীতলতা দেখা দেয়। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যেই ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের সফরও অনেকটা স্থগিত ছিল।

পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। এরপর দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণের মতে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

বর্তমানে সীমান্ত বাণিজ্য স্বাভাবিক হচ্ছে, বাংলাদেশিদের জন্য ভারত আবারও পর্যটন ভিসা চালু করেছে। প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর কলকাতা-ঢাকা ও ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সময় ভারত ‘ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে জরুরি জ্বালানি সরবরাহ করে। সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দিনেশ ত্রিবেদী, যাকে দিল্লি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দিয়েছে।

তবে দুই দেশের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত ‘পুশ-ইন’ ইস্যুও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারত বহু বাংলাভাষী মুসলিমকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। বিষয়টি ঢাকায় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ ভারতের জন্য একটি স্পর্শকাতর কৌশলগত বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির পাশাপাশি নদীটির ড্রেজিং ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বলেছেন, ভারতের সীমান্তের এত কাছে চীনের সম্পৃক্ততা দিল্লির জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’-এর নিকটবর্তী অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি ভারত কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে।

তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের দাবি, অতীতের সরকারগুলো ভারতকে তিস্তা প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, কিন্তু দিল্লি দীর্ঘ সময়েও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে চীনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে।

এদিকে বেইজিং বলেছে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি বাইরের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।

বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ চীন। দেশের মোট অস্ত্র আমদানির ৭০ শতাংশের বেশি আসে বেইজিং থেকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কাছে চীনের ঋণের পরিমাণও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সফরের সময় চীন ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ উন্নয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়াকে দীর্ঘদিন নিজেদের প্রভাব বলয় হিসেবে দেখলেও ভারত এখন চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির মুখোমুখি। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে বেইজিংয়ের সক্রিয়তা সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখনো ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিষ্পন্ন ইস্যু। বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণ চাইলেও বিষয়টি ভারতকে রাজনৈতিকভাবে জটিল অবস্থানে ফেলেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিকল্প নেই। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংযোগের জন্যও বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের সিপিসি নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ
তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের সিপিসি নেতার সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি...

১৭ ঘন্টা আগে


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডেটা কার্ডও অবমুক্ত করেন তিনি।বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারক

১৭ ঘন্টা আগে


আগামীকাল প্রথমবারের মতো সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামীকাল প্রথমবারের মতো সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে...

২ দিন আগে


পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
পোশাক শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে...

২ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom