৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে অ্যাম্বুলেন্স
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার পরপর আধুনিক সরঞ্জামসমৃদ্ধ অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় আগামী মাস থেকে এ সেবা চালুর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় ৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মহাসড়কে। দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের ঘাটতি অনেক সময় প্রাণহানি বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৩ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রায় ২ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঋণ হিসেবে সহায়তা করছে।
প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে। জিপিএস সুবিধাসম্পন্ন এসব অ্যাম্বুলেন্সে থাকবে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা ও উদ্ধার সরঞ্জাম। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে অ্যাম্বুলেন্সগুলো।
সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহামদ সাব্বীর হাসান খান জানান, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহ, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে যমুনা ব্রিজ হয়ে রাজশাহী এবং হাতিকামরুল থেকে রংপুর—এই তিনটি রুটকে মিলিয়ে মোট ৫০০ কিলোমিটার করিডোরে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স’-এর আওতায় ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেল চালু করা হচ্ছে। প্রতি ১০ কিলোমিটার অন্তর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন প্রশিক্ষিত চালক থাকবেন। ফায়ার সার্ভিসের মতো এসব অ্যাম্বুলেন্স ২৪ ঘণ্টা সেবা দেবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এরই মধ্যে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলোর নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হলেও আগামী মাসের মধ্যেই এ সেবার সুফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।
শুধু অ্যাম্বুলেন্স সেবা নয়, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কের পাশে থাকা দোকান ও ফার্মেসির কর্মীদের মধ্য থেকেও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হবে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা ‘ফার্স্ট এইড’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ফার্স্ট এইড বক্স সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার বা স্থানান্তর করতে হয়, সে বিষয়েও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ প্রশিক্ষণ ছাড়া আহত ব্যক্তিকে ভুলভাবে টেনে সরানোর ফলে তার শারীরিক ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে। এর ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা পেতে সময় কমবে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে অ্যাম্বুলেন্সগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘ডিসেম্বর নয়, এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে’: ইয়াসের খান চৌধুরী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই বাংলাদেশে আসতে হবে। অনলাইনে বক্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশে এসে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর শহরের স্টেশন রোডে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে...
১৮ ঘন্টা আগে
প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে’ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইসিটি...
১৯ ঘন্টা আগে
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ...
২০ ঘন্টা আগে
খেলতে গিয়ে অসুস্থ, মারা গেলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব
খেলতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার মারা গেছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাতে একটি স্টেডিয়ামে খেলতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আশরাফুল আফসার। একপর্যায়ে
১ দিন আগে
