সারাদেশ

তেল পেতে লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথচ ডিপোতে উপচে পড়া মজুত—ব্যবস্থাপনায় বড় সংকট?

অনলাইন ডেস্ক

২১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে পেট্রোলপাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কোথাও ৭-৮ ঘণ্টা, আবার কোথাও ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ একই সময়ে ডিপোগুলোতে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত উপচে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) হঠাৎ করেই দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পেট্রোল ও অকটেন নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় ১০ দিন আগে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়ে।

সরকারি সূত্র বলছে, ডিপোগুলোতে অকটেন সংরক্ষণের জায়গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের মোট সংরক্ষণ ক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে নতুন করে বড় চালান আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এ অবস্থায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “চাহিদার বড় অংশ যখন দেশেই উৎপাদিত হয়, তখন মানুষকে কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হবে? এর মানে সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে।”

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দেশীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল কেনার বিষয়ে তিনি মত দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় ৭৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় জোগানদাতা সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি, যা একাই প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ সরবরাহ করে। তবে বিপিসির সরবরাহ গ্রহণ বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির সিইও প্রণব কুমার সাহা জানিয়েছেন, বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও হঠাৎ করে তেল গ্রহণ বন্ধ করায় তাদের ট্যাংকারগুলো উপচে পড়ছে এবং উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিতরণ কোম্পানি মেঘনা পেট্রোলিয়াম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান বলেন, “অকটেন রাখার জায়গা নেই, তাই সীমিত আকারে তেল নেওয়া হচ্ছে।”

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসে বিপুল পরিমাণ আমদানি হওয়ায় সংরক্ষণ সংকট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিপিসিকে প্রতিদিন বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ডিজেলে স্বস্তি ফিরছে:
অনেকদিন পর দেশে ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল। চলতি মাসে প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।


বিশ্লেষণ:
বর্তমান পরিস্থিতি দেখায়, সংকটটি সরাসরি উৎপাদনের নয়, বরং সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার (supply chain) দুর্বলতার ফল। একদিকে মজুত বাড়ছে, অন্যদিকে পাম্পে সংকট—এই বৈপরীত্যই জনদুর্ভোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom