সারাদেশ

বাংলা নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐতিহ্য, চেতনা ও পরিচয়ের প্রতীক

অনলাইন ডেস্ক

৩ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পহেলা বৈশাখ—বাংলা সংস্কৃতির সবচেয়ে বর্ণিল ও সর্বজনীন উৎসব। কৃষিনির্ভর সমাজব্যবস্থা থেকে এর সূচনা হলেও সময়ের সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য উদযাপনে। এই দিনটি শুধু নতুন ক্যালেন্ডারের সূচনা নয়; বরং অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীকী আহ্বান। শহর থেকে গ্রাম, পাহাড় থেকে সমতল—সবখানেই এই উৎসব মানুষের হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার তোলে।

বাংলা নববর্ষের মূল চেতনা ‘নতুন শুরু’। ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলেন—যা ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত। লাল শাড়ি, পাঞ্জাবি, পান্তা-ইলিশ—এসব উপাদান নববর্ষের সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তবে এই উৎসবের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক নিঃসন্দেহে মঙ্গল শোভাযাত্রা।

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ–এর উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার সূচনা হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল এক ধরনের সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ ও জাগরণের বহিঃপ্রকাশ। সমাজের অন্ধকার, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বার্তা দিতেই এই শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। বিশাল মুখোশ, রঙিন পাপেট, বাঘ-হাতি-পাখির প্রতীকী রূপ—সব মিলিয়ে এটি মানুষের আশা, ভয় ও স্বপ্নের সৃজনশীল প্রকাশ।

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কও সময়ে সময়েই সামনে এসেছে। এটি কেবল একটি নামের প্রশ্ন নয়; বরং সংস্কৃতি, রাজনীতি ও পরিচয়ের জটিল সম্পর্কের প্রতিফলন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই উৎসবকে ঘিরে বয়ান ও ব্যাখ্যার পরিবর্তন দেখা গেলেও মূল প্রশ্ন থেকে যায়—আমরা আমাদের এই ঐতিহ্যকে কীভাবে দেখি এবং ধারণ করি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ইউনেসকো এটিকে বিশ্বের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই অর্জন প্রমাণ করে, বাংলা নববর্ষ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়—এটি বিশ্ব সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom