জাতীয়

কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক, তদন্তে ‘প্রকৃত কৃষক’ বলছে প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

১ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক নন—এমন অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তার কিছু ছবি ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিত্তশালী দাবি করা হয়, এমনকি এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবিও ভাইরাল হয়।

তবে সরেজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তাদের দাবি, কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক এবং দীর্ঘদিন ধরেই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত।

জানা যায়, মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের পৈত্রিক জমি রয়েছে ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করেও কিছু আয় করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি কবির হোসেনসহ আরও ১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে কবির হোসেন কৃষক হিসেবে বক্তব্য রাখার পরপরই তাকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ২০২৫ সালে তার পোস্ট করা কিছু এআই-নির্মিত ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেগুলো ঘিরেই সমালোচনা তৈরি হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। তাদের পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

বুধবার বিকেল ও সন্ধ্যায় কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরেজমিনে যা দেখা গেল
স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, কবির হোসেন একজন ক্ষুদ্র কৃষক। ধানচাষের পাশাপাশি তিনি গরু পালন করেন এবং বাড়ির আঙিনায় সবজি আবাদ করেন। তার বসতঘর একটি টিনশেড ঘর।

স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, “কবির আমাদের এলাকার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই তাকে কৃষিকাজ করতে দেখছি।”

আরেক স্থানীয় মির্জা শিশির বলেন, “তাদের পরিবার বরাবরই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। তাকে নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।”

রমজান আলী বলেন, “একজন কৃষক ভালো পোশাক পরতে পারবে না—এটা ঠিক নয়। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।”

কবির হোসেনের বক্তব্য
কবির হোসেন বলেন, “আমি একজন কৃষক। আমার ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে, পাশাপাশি অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করি। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট তৈরি করে কিছু আয় করি। আমি নিজেই কিছু এআই ছবি বানিয়ে পোস্ট করেছিলাম, সেগুলো নিয়েই এখন অপপ্রচার চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার কোনো দলীয় পদ নেই। একজন কৃষকের ভালো পোশাক পরা কি অপরাধ?”

প্রশাসনের অবস্থান
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির একজন প্রকৃত কৃষক এবং তার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্য মিথ্যা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেছি, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি তালিকাভুক্ত প্রান্তিক কৃষক এবং কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য।”

তিনি আরও জানান, সরেজমিন তদন্তের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom