সারাদেশ

ঝিনাইদহের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বদলে গেছে চিত্র, কমেছে জ্বালানি বিক্রি

অনলাইন ডেস্ক

৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ঝিনাইদহ জেলায় গত দুই মাসের ব্যবধানে ফিলিং স্টেশনগুলোর দৃশ্যপটে এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময় যেখানে বাইকার, কৃষক ও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যেত, সেখানে এখন অনেক স্টেশনেই প্রায় ফাঁকা পরিবেশ। ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় জ্বালানি বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুর ও বিকেলে জেলা শহরের পাঁচটি ফিলিং স্টেশন সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক স্টেশনে দেখা গেছে, বিক্রেতারা ক্রেতার অপেক্ষায় সময় পার করছেন।

বিক্রি কমেছে অর্ধেকের কাছাকাছি

জেলা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হতো, এখন তা অনেক ক্ষেত্রে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

উদাহরণ হিসেবে লাউদিয়া তামিম ফিলিং স্টেশনে একদিনে পেট্রোল মাত্র ৩০ লিটার এবং ডিজেল ৮০০ লিটার বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে আগে এখানে কয়েক হাজার লিটার পর্যন্ত বিক্রি হতো।

রেজাউল করিম ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। গত শুক্রবারের তুলনায় বর্তমান বিক্রি অনেক কমেছে। অনেক সময় একটি-দুটি মোটরসাইকেল ছাড়া কোনো ক্রেতা দেখা যায়নি।

আরিফ ফিলিং স্টেশনেও আগের তুলনায় বিক্রি কমে গড়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংকট থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা

ফিলিং স্টেশন মালিক ও ম্যানেজারদের মতে, কিছুদিন আগেও জ্বালানি সংকট ও ‘তেল শেষ হয়ে যাবে’ এমন আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে রাখত। এতে করে পাম্পগুলোতে লম্বা লাইন তৈরি হতো।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই ভিড় নেই। অনেক স্টেশন থেকে লাইনের জন্য ব্যবহৃত বাঁশও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

আরিফ ফিলিং স্টেশনের একজন গ্রাহক শেখ শাহীন বলেন, এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, সহজেই তেল পাওয়া যাচ্ছে।

আরেক বাইকার রনি আহমেদ বলেন, “লাইন নেই, ভিড় নেই-সহজেই ট্যাংকি ফুল করে নিতে পেরেছি।”

কারণ কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, আগে সংকটের আশঙ্কায় মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে রাখায় সাময়িকভাবে চাহিদা বেড়েছিল। এখন সেই অতিরিক্ত চাহিদা কমে গেছে।

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড খুলনা ডিপোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহে কোনো সংকট ছিল না। পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকায় নিয়মিতভাবেই পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে।

তাদের মতে, মূলত ‘প্যানিক বাইং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে আগের ভিড় তৈরি হয়েছিল, যা এখন স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে এসেছে।

সার্বিক চিত্র

ঝিনাইদহ জেলার ৩৬টি ফিলিং স্টেশনের প্রায় সবগুলোতেই একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে-বিক্রি কমে যাওয়া এবং ক্রেতার ভিড় হ্রাস পাওয়া। ফলে দীর্ঘদিন পর জ্বালানি খাতে ফিরেছে তুলনামূলক স্বাভাবিক অবস্থা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom