টেকনোলজি

শিশু-কিশোরদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া

অনলাইন ডেস্ক

৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


শিশু ও কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ আজ এক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে তাদের মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্তমানে অনেক পরিবারেই শিশুদের হাতে বইয়ের বদলে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অল্প বয়সেই তারা মোবাইল ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। পড়াশোনা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় ধরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়, ঘুমের সমস্যা তৈরি করে এবং সামাজিক দক্ষতা হ্রাস করে। একইসঙ্গে ডিজিটাল কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ তাদের মানসিক গঠনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং, সহিংস আচরণ এবং অনলাইনভিত্তিক অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গ্রুপ তৈরি করে কিশোররা দ্রুত সংগঠিত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

এছাড়া অনলাইন বুলিং, ব্ল্যাকমেইলিং, অশ্লীল কনটেন্টে আসক্তি এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীর মনোযোগ দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে কাজ করে, যা আসক্তি বাড়িয়ে তোলে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। চীন, ফ্রান্স, ডেনমার্কসহ একাধিক দেশ বয়সভিত্তিক সীমা ও স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শিশুদের মানসিক ক্ষতির অভিযোগে মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কিশোর অপরাধ, সাইবার হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল এবং আত্মহত্যার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু অভিভাবকদের ওপর দায় চাপিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় নীতি, প্রযুক্তি কোম্পানির দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক সচেতনতা-সবকিছুর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অভিভাবকরা অনেক সময় শিশুকে শান্ত রাখতে বা ব্যস্ত রাখতে মোবাইল হাতে দেন, যা সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এখনই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বয়সভিত্তিক সীমা নির্ধারণ এবং ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom