ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্পের নতুন চাপ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন করে চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে ‘লাইফলাইন’ দেওয়া যেকোনো দেশকে আর্থিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তেহরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ অভিযানের অংশ হিসেবে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক চাপকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার অভিযান হবে ‘যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’। ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা দেশগুলোর জন্য ‘ব্যাপক অর্থনৈতিক পরিণতি’রও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর, নগদ অর্থ সরবরাহ, মানি এক্সচেঞ্জ, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানকে সহায়তার বিষয়গুলো উল্লেখ করে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান ট্রাম্প।
চীন-রাশিয়াকে চাপে ফেলা বড় চ্যালেঞ্জ
তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর ট্রাম্পের চাপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।
রাশিয়া ইতোমধ্যে ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে দেশটি অনেকাংশে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে নিজস্ব বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
অন্যদিকে ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কিনেছে চীন। দেশটির অধিকাংশ শোধনাগারও তুলনামূলকভাবে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হওয়ায় মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরতা কম।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ইরানের অর্থ লেনদেনে সহযোগিতা করা চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে-এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
ইউএইর ওপরও চাপ
ইরানের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তেহরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ইরানের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য আমদানিতে ইউএই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী ইউএইর ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে-এমন অভিযোগের পর দেশটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
রাশিয়ার সঙ্গে বিকল্প অর্থনৈতিক সম্পর্ক
চীনের তুলনায় রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যের পরিমাণ কম হলেও দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়া ও ইরান ২০ বছরের একটি অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, সামরিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য পণ্যের লেনদেনও রয়েছে। রাশিয়ার ওপর আগে থেকেই ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন করে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মস্কোর ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা পরিবর্তন করা যাবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার বিকল্প খুঁজছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপের সমালোচনা করে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যর্থ নীতির’ ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইরান একই সঙ্গে পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প অর্থায়ন ও বাণিজ্যিক পথ খুঁজছে। ব্রিকসের সদস্য হিসেবে তেহরান এই জোটের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। পাশাপাশি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় লেনদেনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে ইরানের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে এখনো ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সামনে কতটা অবস্থান পরিবর্তন করে তার ওপর। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়লেও তেহরান পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সুখী দেশের তালিকায় পিছিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে ফিলিস্তিন
‘সবাই তো সুখী হতে চায়, তবু কেউ সুখী হয়, কেউ হয় না’-কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মান্না দের কণ্ঠে গাওয়া এই কালজয়ী গান মানুষের চিরন্তন এক সত্যকে তুলে ধরে। সুখের প্রত্যাশা সবার, কিন্তু সেই সুখ সবার জীবনে সমানভাবে ধরা দেয় না।সুখের খোঁজে মানুষ নানাভাবে ছুটে বেড়ায়। কেউ দেশান্তরী হয়, কেউ আপনজনের সান্নিধ্যে শান্তি...
২ ঘন্টা আগে
সিএএর আওতায় বাংলাদেশি শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া ছয় মাসে শেষ হবে
বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত সরকার।শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।অমিত শাহ বলেন, বাংলাদেশ থেকে নির্যাতনের...
২ ঘন্টা আগে
ইরাকি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি ইরানের
হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাগদাদের পক্ষ থেকে একাধিকবার তেহরানের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ইরাক সফরের সময় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ইরাকের পার্লামেন্টের স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি
৫ ঘন্টা আগে
ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপের নীতিও ব্যর্থ হতে বাধ্য। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।আরাগচি বলেন, গত ১৪ বছর ধরে ইরানের ওপর আরোপিত ইতিহাসের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং আট বছর আগে শুরু হওয়া ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিও কাঙ্ক্ষিত
১০ ঘন্টা আগে
