ভাত ছাড়লেন, তবুও কি ওজন বাড়ছে? পুষ্টিবিদরা বলছেন— দোষ ‘আটার রুটির’
অনলাইন ডেস্ক
ওজন কমাতে অনেকেই ভাত বাদ দিয়ে রুটির দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু ভাত না খেলেও ওজন কমছে না; বরং কারও কারও ওজন বাড়ছে আরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাতের বদলে অতিরিক্ত আটার রুটি খাওয়াই এর প্রধান কারণ।
পুষ্টিবিদদের মতে, আটার রুটি মোটেও ‘পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর’ নয়। বরং বেশি পরিমাণে খেলে দ্রুত বাড়তে পারে ওজন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা ভাত বাদ দিয়ে শুধু রুটি খেতে শুরু করলে তাদের সুগার আরও বেড়ে যেতে পারে।
পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেন, “ভাত অল্প করে দুই বেলা খেলে কোনো সমস্যা নেই। পরিমাণ মেপে খেলে ক্যালোরিও বাড়বে না।” তিনি আরও জানান, ভাতের বদলে যদি দুই বেলা ৫–৬টি করে রুটি খাওয়া হয়, তবে ওজন দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে। সাদা আটা বা ময়দার রুটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
তাঁর পরামর্শ—
- সারা দিনে সর্বোচ্চ ৩–৪টি রুটি খাওয়া যেতে পারে
- রুটির সঙ্গে সবজি ও কম মসলায় রান্না তরকারি খাওয়া উত্তম
- অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যেভাবেই নেন, ওজন বাড়বেই
রুটি কেন ক্ষতির কারণ হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রুটি বা ভাত নয়— পরিমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আটা ও ময়দা প্রক্রিয়াজাত খাবার, যা তৈরি করতে গিয়ে বহুবার পরিশোধন করা হয়। এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজের বড় অংশই নষ্ট হয়ে যায়।
এই পরিশোধিত আটা শরীরে দ্রুত হজম হয় এবং রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়, বাড়ায় ওজনও।
ওজন কমাতে কোন রুটিগুলো নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, আটার রুটির বদলে নিচের বিকল্পগুলো অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর—
- জোয়ারের রুটি: ফাইবার, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ; হজমে সহায়ক
- বাজরার রুটি: ক্যালোরি কম, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
- রাগির রুটি: আয়রন বেশি; রক্তস্বল্পতা দূর করতে উপকারী
- ওটসের রুটি: উচ্চ ফাইবার; ওজন দ্রুত কমাতে কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ— ভাত বা রুটি যে-ই খান, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

