সারাদেশ

‘আমি না খাইয়া থাকলেও কারো কাছে হাত পাতি না, শরম করে’

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


সকাল গড়িয়ে দুপুর। সিদ্ধিরগঞ্জ-এর পাইনাদী এলাকায় ভাঙা ইটের স্তূপের পাশে বসে ছোট্ট হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙছেন আনোয়ারা বেগম (৬৯)। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, তবু থেমে নেই তার হাত। কারণ কাজ থামলেই থেমে যাবে খাবার আর ওষুধের ব্যবস্থা।

“আমি না খাইয়া থাকলেও কারো কাছে হাত পাতি না, শরম করে”-নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতা এভাবেই তুলে ধরেন তিনি।

নদীভাঙনে নিঃস্ব, শহরে সংগ্রাম

আনোয়ারার বাড়ি ডিমলা উপজেলা-র পূর্ব ছাতনাই গ্রামে। তিস্তা নদীর ভাঙনে হারিয়ে যায় সহায়-সম্পদ। এরপর স্বামী রেফাজউদ্দীন ভূঁইয়ার সঙ্গে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন।

শুরুতে স্বামী রিকশা চালাতেন, পরে দিনমজুরের কাজ করতেন। অল্প আয়ে কোনো রকমে চলছিল সংসার। কিন্তু ২০০৮ সালে স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে ভেঙে পড়ে সেই স্বাভাবিক জীবন।

ইট ভেঙেই বাঁচার লড়াই

স্বামীর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তারা। তখনই জীবিকার তাগিদে ইট ভাঙার কাজ শুরু করেন আনোয়ারা। দিনে ৪০ টাকা মজুরিতে শুরু হওয়া সেই কাজই এখন তার একমাত্র ভরসা।

২০১২ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পুরোপুরি একা হয়ে পড়েন তিনি। সন্তানহীন জীবনে আরও গভীর হয় তার নিঃসঙ্গতা।

বয়সের ভার, তবু থামে না সংগ্রাম

বর্তমানে দিনে গড়ে ১৫০ টাকার মতো আয় হয় তার। এই সামান্য আয় দিয়েই চালাতে হয় খাবার ও চিকিৎসার খরচ। আলসারসহ নানা রোগে ভুগলেও কাজ বন্ধ করার সুযোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় একটি কক্ষে থাকেন তিনি। তবে নিজের খরচ নিজেই চালানোর চেষ্টা করেন সবসময়।

পরিচয়পত্র নেই, নেই সহায়তা

জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কোনো সরকারি সহায়তা পান না আনোয়ারা বেগম। বয়স্ক ভাতার মতো সুবিধা থেকেও বঞ্চিত তিনি।

মে দিবসের সরল উপলব্ধি

শ্রমিক দিবস সম্পর্কে তার উপলব্ধি খুবই সরল-“কাম করলে টাকা পামু, টাকা পাইলে খাওন আর ওষুধ পামু।”

প্রতীক এক সংগ্রামের

আনোয়ারা বেগমের জীবন শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; এটি সমাজের প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বার্ধক্যে এসে ন্যূনতম নিরাপত্তা না পাওয়ার এই চিত্র রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য এক কঠিন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom