সারাদেশ

আকস্মিক বৃষ্টি ও ঢলে হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

অনলাইন ডেস্ক

১ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা ও আধাপাকা ধান ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা এবং মৌলভীবাজার জেলার হাওরাঞ্চল। পানির নিচে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে গিয়ে কৃষকদের চোখের পানি আর বৃষ্টির পানি যেন একাকার হয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে কাটা ধান শুকাতে না পারায় পচনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে তদারকি ও সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে। সংস্থাটির পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানান, ক্ষতি কমাতে যান্ত্রিকভাবে ধান কাটার ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে এবং ড্রায়ার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের সরকারি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং দ্রুত তালিকা তৈরি করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পানিতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্তত চারটি নদী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হাওর ও বিল এলাকার বিপুল ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এমন আকস্মিক বন্যায় চলতি বছরের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বোরো ধান থেকে দেশের বড় অংশের চাল উৎপাদিত হওয়ায় এই ক্ষতি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ধান কাটার জন্য রিপার হারভেস্টার ব্যবহার, পর্যাপ্ত প্রণোদনা ও মূল্য সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন এবং ভবিষ্যতে উৎপাদনে আগ্রহ হারাতে পারেন।

সার্বিকভাবে, আকস্মিক বৃষ্টি ও ঢলে দেশের কৃষি খাত বিশেষ করে হাওরাঞ্চল এখন বড় সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom