জাতীয়

ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস: দূষণ ও যানজট কমাতে নতুন সম্ভাবনা, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক

২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানী ঢাকা-র বায়ুদূষণ ও যানজট কমাতে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে সুস্পষ্ট নীতিমালা, আধুনিক অবকাঠামো এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর বাধা অতিক্রম করা কঠিন হবে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আধুনিক গণপরিবহন চালু ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস নামানোর ঘোষণা দেন। এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরছেন তারা।

দূষণ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় চলাচলকারী ডিজেলচালিত বাসগুলো বায়ুদূষণের অন্যতম বড় উৎস। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে গণপরিবহন খাতে বৈদ্যুতিকীকরণ শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০-৩০ বছরে ডিজেলচালিত যানবাহন বিলুপ্তির পথে যাবে। বাংলাদেশেও এ পরিবর্তন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব যানবাহনে প্রণোদনা, বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা এবং ধাপে ধাপে সব যানবাহনকে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি।

অবকাঠামো ও দক্ষতার ঘাটতি

বুয়েটের আরেক বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান জানান, ঢাকার অর্ধেকের বেশি বাস ইতোমধ্যে আয়ুষ্কাল পার করেছে, যা দ্রুত সরানো প্রয়োজন। এসবের পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালু করলে জ্বালানি দক্ষতা প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইলেকট্রিক বাস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর। এজন্য প্রয়োজন-

  • দক্ষ টেকনিশিয়ান

  • আধুনিক ওয়ার্কশপ ও সরঞ্জাম

  • প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা

  • স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ

  • রিসাইক্লিং ও স্ক্র্যাপ নীতিমালা

প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাধা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল পরিবহন খাতের প্রভাবশালী চক্র। রিকন্ডিশন গাড়ি ব্যবসায়ী ও ডিজেলচালিত বাস মালিকদের বিরোধিতার কারণে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় আগেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস মালিকদের ভেটোর কারণে তা থেমে যায়। তাই এবার সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার জানিয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ঢাকার বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

এছাড়া শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানি এবং ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস নামানোর প্রস্তাব রয়েছে, যার বড় অংশই বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত হবে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom