আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত, জাহাজ আটক ও পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বৃদ্ধি

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের একটি কার্গো জাহাজ আটক এবং এর জেরে পাল্টা ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ অমান্য করায় হরমুজ প্রণালিতে একটি ইরানি জাহাজ আটক করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট অভিযান চালিয়ে জাহাজটি দখলে নেয়।

এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানে আন্তরিক নয় এবং তাদের পদক্ষেপ শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে জাহাজ আটকের জবাবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি।

আলোচনায় অনিশ্চয়তা, পাকিস্তানে কড়া নিরাপত্তা

সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি-তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স থাকার কথা থাকলেও তার সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। কিছু সূত্র বলছে, তিনি এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তেহরান জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসা অনিশ্চিত।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সেনাপ্রধানের বার্তা

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধই শান্তি আলোচনার প্রধান অন্তরায়। একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও, যিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে “ভয়াবহ পরিণতি” ভোগ করতে হবে। তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলারও ইঙ্গিত দেন।

তেলের বাজারে প্রভাব

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা এবং আলোচনার অনিশ্চয়তায় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বিস্তৃত

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলও অস্থির রয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক গ্রামে ইসরাইলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে তাদের আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

সার্বিক পরিস্থিতি

বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজ আটক, পাল্টা হামলা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন-সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom