আন্তর্জাতিক

লোকসভার আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা মোদির, নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভার আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে তিনটি খসড়া বিল সংসদ সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য লোকসভা-এ বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, লোকসভার আসনসংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা হবে। এতে এটি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নিম্নকক্ষে পরিণত হবে। একইসঙ্গে সংসদের এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার এক বক্তব্যে মোদি বলেন, “আমাদের আইনসভায় নারীদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরও শক্তিশালী হবে।”

নয়াদিল্লিভিত্তিক সংগঠন উইমেন পাওয়ার কানেক্ট-এর প্রধান রঞ্জনা কুমারী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বর্তমানে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ১৩ শতাংশ, যা এই উদ্যোগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তবে এ প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে। তাদের দাবি, জনবহুল উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিজেপির শক্ত অবস্থানের কারণে সেখানে আসন বাড়লে দলটির রাজনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। বিপরীতে দক্ষিণের বিরোধী-নিয়ন্ত্রিত রাজ্যগুলো তুলনামূলকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন সতর্ক করে বলেছেন, “যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় যা দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করে, তাহলে তামিলনাড়ু শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।”

বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, এই প্রস্তাব মূলত সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা, যার সঙ্গে নারী সংরক্ষণের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি আদমশুমারির পর নির্বাচনি এলাকার পুনর্বিন্যাসের সুযোগ থাকলেও সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে তা কার্যকর করা হয়েছিল। বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন হওয়ায় নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

এদিকে, এই সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে, যা সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom