জাতীয়

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, বেড়েছে লোডশেডিং-গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ চরমে

অনলাইন ডেস্ক

২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


দেশে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই বিদ্যুৎ খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান বাড়ায় রাজধানীর তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট, ফলে গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফার্নেস তেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং বাড়ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৫৫২ মেগাওয়াট, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৩২ মেগাওয়াট। একই দিনে পিক আওয়ারে চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭২২ মেগাওয়াটে, কিন্তু উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট। ফলে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

এদিন মোট ১ হাজার ৪৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৬০ মেগাওয়াট এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১২২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর-সব বিভাগেই লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে।

জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চল গ্রিডে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট) বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকায় তুলনামূলক বেশি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। ১৮ এপ্রিল এ গ্রিডে ১০ হাজার ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে ঢাকাতেই দেওয়া হয় ৫ হাজার ৬১৮ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ৪ হাজার ২৯৫ মেগাওয়াট।

তবে বাস্তব চিত্রে গ্রামাঞ্চলেই বেশি ভোগান্তি দেখা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে, ফলে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে কৃষিকাজ, ছোট শিল্প ও গৃহস্থালির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার এক বাসিন্দা জানান, “বিদ্যুৎ কখন আসে, কখন যায় বোঝা যায় না। দিনে ৭-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যায়, এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই ধরনের অভিযোগ রাজশাহী ও অন্যান্য গ্রামাঞ্চল থেকেও পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পেছনে জ্বালানি সংকটই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেশের ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট হলেও এর বড় একটি অংশ অলস পড়ে রয়েছে। জ্বালানির অভাবে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং আরও ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদন করছে।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে, যাতে লোডশেডিং বড় আকার না নেয়।”

এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে রাত ৯টার পরও দোকানপাট খোলা রাখতে দেখা যাচ্ছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom