রাজনীতি

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক খাদিমুল নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত হত্যা ইস্যু। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

মঙ্গলবার হাতীবান্ধার উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় নিহত খাদিমুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের নীরবতাকে দায়ী করেন এবং বলেন, “ভারত থেকে বসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে অস্থির করে তুলছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা গেলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে।”

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে একের পর এক বাংলাদেশি নিহত হলেও সরকার কার্যকর কোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হলে তার পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাটওয়ারীর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে “অত্যাচার ও ভয়ভীতি” চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করতে সীমান্তপথে মাদক প্রবেশে সহায়তা করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কসবা ও লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হতাহতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত দুর্বল। বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে হবে।”

খাদিমুল হত্যার ঘটনাকে ঘিরে তিনি বিজিবির ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তার দাবি, নিহতের পরিবার জানিয়েছে খাদিমুল মাছ ধরতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএফের বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সীমান্তবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রায়ই চোরাচালানের অভিযোগে সন্দেহ করা হলেও বাস্তবে তারা নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতা ও মানবিক সংকটে জীবনযাপন করছেন।

তিনি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন।

সীমান্তে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে “সীমান্ত-শহীদ” পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত হত্যা ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি দীর্ঘস্থায়ী ও স্পর্শকাতর বিষয়। প্রায় প্রতি বছরই সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও দৃশ্যমান নয়। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কড়া বক্তব্য অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom