রাজনীতি

বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে মঞ্চে উঠতে পারেননি সেতুমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পটুয়াখালীর বাউফলে বগা সেতুর সম্ভাব্যতা পরিদর্শনে গিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান, উত্তেজনা ও বিক্ষোভের কারণে তিনি নির্ধারিত সভামঞ্চে উঠতে পারেননি।

মঙ্গলবার দুপুরে বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সেখানে যান সেতুমন্ত্রী। এ উপলক্ষে ফেরিঘাটের পূর্ব প্রান্তে বাউফলের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ-এর সৌজন্যে একটি সভামঞ্চ প্রস্তুত করা হয়।

তবে মন্ত্রী ফেরিতে করে পূর্বপাড়ে পৌঁছানোর পরই রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সভাস্থলে মন্ত্রীর প্রবেশে বাধা দেন। এতে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

ঘটনাস্থলে “ভুয়া ভুয়া” স্লোগান তুলে জামায়াতপন্থী সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি সমর্থকরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সেতুমন্ত্রী পূর্বপাড় ত্যাগ করে ফের পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান এবং সেখানে বিকল্প মঞ্চে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভার ব্যানারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর ছবি না থাকায় তারা ক্ষুব্ধ হন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র দাবি করেছে, জামায়াত-আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীকে অংশ নিতে না দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কূট্টি-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি সেতুমন্ত্রী বা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পশ্চিমপাড়ের মঞ্চে বক্তব্য দেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “মন্ত্রী মহোদয় কষ্ট করে এসেছেন। আমাদের কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে আমি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা মাঠপর্যায়ে এমন উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন কার্যক্রম উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom