রাজনীতি

“মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব”-শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বহু ষড়যন্ত্র, হামলা ও হত্যাচেষ্টার পরও তিনি “মাথা উঁচু করে” বাংলাদেশের মাটিতে ফিরবেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার রাজনৈতিক জীবনে অন্তত ১৯ বার হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষভাবে তিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সেই হামলার লক্ষ্য ছিল তাকে এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি আবারও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তার ভাষায়, “সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়েই ফিরব।”

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-ঘনিষ্ঠ প্রশাসনের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। তার দাবি, শতাধিক নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী “মিথ্যা মামলায়” কারাবন্দি রয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের বাইরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতারা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না, দল আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে।”

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সবসময় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গঙ্গা পানি চুক্তি, বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

বিরোধীদের “ভারত-তোষণ” অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কূটনৈতিক বাস্তবতার অংশ এবং তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে দেশে ফেরার প্রত্যয় এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom