বিনোদন

‘রাগ করলা’ ভাইরাল ট্রেন্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নিলয় আলমগীর

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘রাগ করলা’ সংলাপকে ঘিরে নেটিজেনদের উন্মাদনার সমালোচনা করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা নিলয় আলমগীর। ভাইরাল সংস্কৃতি ও সেটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক আচরণকে তিনি ‘দ্বিমুখী মানসিকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিনেতা লেখেন,
“রাগ করলা, রাগ করলা বলতে বলতে তাকে ভাইরাল করো, তারপর তাকে দিয়ে শো-রুম উদ্বোধন করাইয়ো। এওয়ার্ড প্রোগ্রামে ইনভাইট করে এওয়ার্ড দিও। তারপর স্ট্যাটাস দিও— রুচির দুর্ভিক্ষ।”

তার এই মন্তব্য মূলত সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ব্যক্তি বা কনটেন্টকে ঘিরে অতিরিক্ত প্রচার, বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং পরবর্তীতে সেই সংস্কৃতির সমালোচনার প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করে।

ভাইরাল সংস্কৃতি নিয়ে নতুন বিতর্ক

বর্তমানে ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবকেন্দ্রিক কনটেন্ট সংস্কৃতিতে প্রায়ই দেখা যায়-কোনো ব্যক্তি অদ্ভুত সংলাপ, আচরণ বা ভিডিওর কারণে রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। এরপর তাকে বিভিন্ন শো-রুম উদ্বোধন, টেলিভিশন অনুষ্ঠান কিংবা পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

নিলয় আলমগীরের বক্তব্যে মূলত এই প্রবণতার অসংগতিই উঠে এসেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল বিষয়বস্তু উপভোগ করলেও পরে আবার একই বিষয়কে “রুচির অবক্ষয়” বলে সমালোচনা করেন। অভিনেতার মতে, এই দ্বৈত অবস্থানই সমস্যার মূল।

কে এই ‘রাগ করলা’ ব্যক্তিত্ব?

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে “রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক” ধরনের সংলাপ দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন এক ব্যক্তি, যাকে অনেকেই ‘কবিরাজ’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন অভিনয়শিল্পী; তার নাম ঈমান আলী। তিনি গাজীপুরে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

এই ভাইরাল কনটেন্টকে ঘিরে ইতোমধ্যে অসংখ্য মিম, ভিডিও রিমিক্স এবং অনলাইন প্রচারণা তৈরি হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা সামাজিক রুচি, কনটেন্ট সংস্কৃতি এবং ডিজিটাল জনপ্রিয়তার প্রকৃতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তারকাদের উদ্বেগ নতুন নয়

ভাইরাল সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ এই প্রথম নয়। এর আগেও দেশের বিভিন্ন তারকা ও সংস্কৃতিকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “স্বল্পমানের কনটেন্ট” দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এবং তা মূলধারার বিনোদনে জায়গা পাওয়ার সমালোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তার মানদণ্ড এখন অনেকটাই অ্যালগরিদমনির্ভর। ফলে কনটেন্টের গুণগত মানের চেয়ে তাৎক্ষণিক বিনোদন ও শেয়ারযোগ্যতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এ কারণেই “ভাইরাল” হওয়া ব্যক্তি বা সংলাপ অল্প সময়েই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নিলয় আলমগীরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই দীর্ঘদিনের বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে-জনপ্রিয়তা কি সত্যিই রুচির মানদণ্ড নির্ধারণ করে, নাকি এটি কেবল ডিজিটাল যুগের ক্ষণস্থায়ী উত্তেজনা?

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom