বিনোদন

কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে শোকের ছায়া শোবিজে, স্তব্ধ সহকর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক

২২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার-এর অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের শোবিজ অঙ্গনে। ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার বাবা কায়সার হামিদ।

তরুণ এই শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক হয়ে পড়েছেন বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণ ও শোকবার্তায় তাকে স্মরণ করছেন তারা।

প্রার্থনা ফারদিন দীঘি কারিনার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে লেখেন,
“কারিনা আপু, তুমি সেদিন আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলে ‘দীঘি আমি কিন্তু বিদায় ফার্স্ট ডে দেখব।’ তুমি আমার সঙ্গে ঘুরতে যেতে চেয়েছিলে। আপু, প্রত্যেকটা কথা আমার কানে বাজছে। ভালো থাকো আপু।”

অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান মেসেঞ্জারের কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লেখেন,
“মাত্র এক মাস আগে তুমি আমাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে আমার কাজের প্রশংসা করেছিলে। ভাবিনি সেটাই আমাদের শেষ কথা হবে। তুমি সত্যিকারের একজন ভালো মানুষ ছিলে। আল্লাহ তোমাকে জান্নাত নসিব করুন।”

একসঙ্গে বিজ্ঞাপনে কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরে নুসরাত ফারিয়া লেখেন,
“এটা খুবই দুঃখজনক। সে অসাধারণ প্রতিভাবান ছিল। বাংলাদেশ তোমাকে মিস করবে।”

তাসনিয়া ফারিণ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,
“তার মাঝে এক অন্যরকম আলো ছিল। কোনো ঘরে ঢুকলেই তার ইতিবাচক উপস্থিতি সবার নজর কাড়ত। শান্তিতে ঘুমাও কারিনা। এই পৃথিবী তোমার যোগ্য ছিল না।”

চিত্রনায়িকা তমা মির্জা শোক প্রকাশ করে লেখেন,
“আহারে জীবন, আহা জীবন-জলে ভাসা পদ্মা যেমন। কারিনা কায়সার, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

উপস্থাপিকা ও মডেল নীল হুরেরজাহান বলেন,
“আমি এটা শোনার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলাম না। মেনে নেওয়ার মতো না।”

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিন আবসার লেখেন,
“মোমবাতিতে ভরা একটি ঘরে তুমি ছিলে ঝাড়বাতির মতো, কারিনা। আল্লাহ হাফেজ, আবার দেখা হবে।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন কারিনা। প্রথমে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে হলেও পরে পরীক্ষায় তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি ‘হেপাটাইটিস এ’ ও ‘হেপাটাইটিস ই’-তে আক্রান্ত ছিলেন। আগে থেকেই তার ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ছিল। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তার লিভার ফেইলিউর হয়।

প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানে খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিবিড় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, চিকিৎসার একপর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় তার রক্তচাপ হঠাৎ অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সামাজিকমাধ্যমে সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাণ এবং বিভিন্ন ওয়েব কনটেন্টে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিতি পেয়েছিলেন কারিনা কায়সার। তার অকাল মৃত্যুতে শোক ও স্মৃতিচারণায় ভরে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom