জাতীয়

নিজের ও পরিবারের ৯টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক

২ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তার ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাবে মোট ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে। তার বাবার পাঁচটি হিসাবে রয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা।

বুধবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পরিবারের হিসাব

আসিফ মাহমুদ জানান, তার বাবার পাঁচটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে-স্যালারি, সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে সেখানে জমা আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। তবে তার বাবা ১০ লাখ টাকার একটি সার্ভিস লোন নিয়েছিলেন, যার বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সব হিসাব সমন্বয় করলে তিনি দেনায় রয়েছেন।

তার মায়ের একটি হিসাবে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর একটি হিসাবে রয়েছে ৬১৩ টাকা।

নিজের হিসাবের বিবরণ

তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এর একটি সোনালী ব্যাংক-এর সেভিংস অ্যাকাউন্ট, যেখানে রয়েছে ৯ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যটি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ব্যবহৃত স্যালারি অ্যাকাউন্ট, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।

আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাসিক প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বেতন ও ভাতা পেয়েছেন। এছাড়া পাঁচটি বিদেশ সফরের টিএ/ডিএ বাবদ অর্থ পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ওই হিসাবে মোট ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা ক্রেডিট হয়েছে এবং ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ওই হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল বলে জানান তিনি।

তার দাবি, ওই হিসাবে জমাকৃত অর্থ সম্পূর্ণই সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে এসেছে। এর বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো অর্থ জমা হয়নি।

তদন্ত ও অভিযোগ প্রসঙ্গে

তিনি জানান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। মোট ৫৬ জনের হিসাব চাওয়া হলেও শুধু তার বিষয়টি আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তদন্তে তার আপত্তি নেই বলেও জানান।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে আসার পর নতুন করে প্রচার শুরু হয়েছে।

দুদকে দায়ের করা একটি অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা ভিত্তিহীন।

টেন্ডার ইস্যুতে বক্তব্য

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারা নেয়। মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সীমিত।

তিনি আরও বলেন, ই-জিপি পদ্ধতি স্বচ্ছ এবং যে কেউ চাইলে প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন। কোনো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে।

সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য না নিয়ে ‘সূত্র মতে’ বা ‘গোপন সূত্রে’ শিরোনাম করা হলে গণমাধ্যমের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তার কোনো কিছু গোপন নেই এবং তিনি স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন বলেও দাবি করেন।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom