জাতীয়

অনাগত শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ অসাংবিধানিক: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়

মেহেদী হাসান | স্টাফ রিপোর্টার

৪ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশকে অসাংবিধানিক এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত ওই রায়ে আদালত বলেছেন, গর্ভের সন্তানের ছেলে বা মেয়ে পরিচয় প্রকাশ সমাজে বৈষম্য, কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এবং নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর মর্যাদা, সমতা ও বেঁচে থাকার অধিকারের পরিপন্থি। এ ধরনের চর্চা কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং সমাজে ভারসাম্যহীনতা তৈরির আশঙ্কা বাড়ায়। আদালতের মতে, এটি সংবিধানে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালারও পরিপন্থি।

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেন। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের মাধ্যমে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত বলেন, সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষুণ্ন হতে পারে।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ আইনগতভাবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন আদালত।

হাইকোর্ট এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি আদালতের তদারকির আওতায় রাখা যায়।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom