সারাদেশ

জ্বালানি সংকটে রংপুরে জনজীবন স্থবির, উৎপাদন ও কৃষিতে বিপর্যয়

অনলাইন ডেস্ক

৮ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটে রংপুর অঞ্চলের সার্বিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অব্যাহত লোডশেডিংয়ে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কৃষিতে সেচ কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছে, পরিবহন খাত বিপর্যস্ত এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দ্বৈত সংকটে ইরি-বোরো মৌসুমেও সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেচ পাম্প চালাতে না পারায় ধান, ভুট্টা ও রবিশস্য ক্ষেতে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ধান পাকলেও পানির অভাবে শিষে চিটা দেখা যাচ্ছে, ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্প খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডসহ গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরীগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অথচ শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে নিয়মিত-ফলে আর্থিক চাপ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শিক্ষা খাতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। গরম ও বিদ্যুৎ সংকটে অনেক পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

পরিবহন খাতেও সংকট প্রকট। অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গাড়ি চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাদের আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

তেলের পাম্পগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ পাম্প সপ্তাহে কয়েকদিন বন্ধ থাকছে। যেসব দিন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, সেসব দিনও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও তেল সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

হিমাগার মালিকেরা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে সংরক্ষণ কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে সেটিও ব্যাহত হচ্ছে। এতে আলুসহ সংরক্ষিত কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্র চালু থাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এই সংকটের অন্যতম কারণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি উৎসে নির্ভরতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় কৃষি, শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে।

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom