জাতীয়

জাল ভোট দিলে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

২ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ভোটাধিকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। নাগরিকের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রতিনিধি নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকারই হলো ভোট। তবে এই অধিকার যদি জালিয়াতির মাধ্যমে অপব্যবহার করা হয়, তাহলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং প্রচলিত আইনে এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

জাল ভোট কী?

জাল ভোট হলো এমন ভোট, যেখানে প্রকৃত ভোটার নিজে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন না বা তার স্বাধীন ইচ্ছা প্রতিফলিত হয় না। সাধারণত নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে জাল ভোট সংঘটিত হয়-

  • অন্য কেউ ভোটারের নাম ব্যবহার করে ভোট প্রদান করলে

  • ভোটার উপস্থিত না থাকলেও তার নামে ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে গেলে

  • ভয়ভীতি, জোরজবরদস্তি বা প্রলোভনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করলে

  • একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিলে

সহজভাবে বলা যায়, যেখানে ভোটারের স্বাধীন মতামত অনুপস্থিত থাকে, সেখানেই জাল ভোটের অস্তিত্ব।

দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অনাস্থা

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ভরাট, ছদ্মবেশে ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়ম নিয়ে অতীতে বিতর্ক দেখা গেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোও জাল ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

আইন ও শাস্তির বিধান

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (Representation of the People Order, 1972)-এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নির্বাচনের সময় দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কোন কাজগুলো জাল ভোট হিসেবে গণ্য

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নিম্নোক্ত কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ-

১. কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া বা বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তির সহায়তা গ্রহণ, প্ররোচিত করা বা তার চেষ্টা করা (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৪ অনুচ্ছেদ)।

২. ভোট দেওয়ার অযোগ্য জেনেও বা অযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও ভোট প্রদান করা কিংবা ব্যালট পেপার চাওয়া।

৩. একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করা বা ব্যালট পেপার চাওয়া।

৪. একই নির্বাচনে একাধিক ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করা বা ব্যালট পেপার চাওয়া।

৫. ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলা।

৬. জ্ঞাতসারে এসব বেআইনি কাজের জন্য অন্য কাউকে প্ররোচিত করা বা সহায়তা করা।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের চ্যালেঞ্জ

বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর প্রয়োগও জরুরি। ভোটারদের সচেতনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ-এই তিনটি উপাদান একত্রে কাজ করলেই জাল ভোট প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। কারণ ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকলেই গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে-এ বিষয়ে দ্বিমত নেই।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom