জাতীয়

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা: মন্ত্রীর বক্তব্যে বাড়ছে জনঅসন্তোষ

অনলাইন ডেস্ক

৯ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় চরম বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, তখন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীর গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক যাত্রী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। একাধিক যাত্রী জানান, ৫৫০ টাকার টিকিট ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে মন্ত্রী দাবি করেছেন, ঈদে কোনো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া কম রাখা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। অনেকেই এটিকে বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, মাঝপথের যাত্রীদের কাছ থেকে পূর্ণ ভাড়া আদায়ের বিষয়টিকেও ‘যৌক্তিক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় পুরো রুটের ব্যয়ের ভিত্তিতে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে দেখছেন।

শুধু সড়কপথ নয়, রেলপথেও একই ধরনের অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম চালুর পরও সার্ভার ডাউন, কালোবাজারি ও টিকিট সংকটের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে বলে জানা গেছে। ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপও উদ্বেগজনক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরই যাত্রীচাপ বাড়ে, তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকি থাকলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অতীতে কঠোর নজরদারি, পরিচয়পত্রভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থা এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্রিয়তার মাধ্যমে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা আনার নজির রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতে কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাব, টার্মিনালভিত্তিক সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তার প্রভাব খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

জনসাধারণের প্রত্যাশা, চটকদার বক্তব্যের পরিবর্তে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত যানবাহন সংযোজন, টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom