জাতীয়

হাট এড়িয়ে খামারমুখী ক্রেতারা, জমে উঠেছে রাজধানীর কোরবানির গরুর বাজার

অনলাইন ডেস্ক

১৭ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


চলতি মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আর এই উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ পশু কোরবানি ঘিরে রাজধানীতে ইতোমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির গরুর বাজার। তবে আগের মতো শুধু হাট নয়, এখন অনেক ক্রেতাই ঝুঁকছেন খামারমুখী কেনাকাটায়।

কোরবানির পশু কিনে বাড়ি ফেরা, পথে ‘দাম কত হলো’-এমন পরিচিত দৃশ্য ও দরদামের উৎসবমুখর পরিবেশ এখনও আছে। কিন্তু অনেকেই এখন ভিড়, কাদা, দালাল কিংবা পশুর হাটের ঝক্কি এড়িয়ে নির্ঝঞ্ঝাট কোরবানির পথ খুঁজছেন। সেই সুযোগই করে দিচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন গরুর খামার।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা খামারগুলোতে এখন পরিবার নিয়ে গিয়ে গরু দেখা, দাম যাচাই, বুকিং দেওয়া-সবই করছেন ক্রেতারা। কেউ পুরো গরু কিনছেন, আবার কেউ সাতজন মিলে ভাগে কোরবানির জন্য বুকিং দিচ্ছেন। খামার কর্তৃপক্ষ গরু বাসায় পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে জবাই ও মাংস প্রসেসিংয়ের সেবাও দিচ্ছে।

উত্তরার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি আর হাটে গিয়ে গরু কেনেন না। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খামারে গিয়ে পছন্দমতো গরু দেখে বুকিং দেন। পরে ঈদের আগের রাতে খামার থেকেই গরু বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, “হাটে ভিড়, দরদাম আর বাস্তব দামের মধ্যে পার্থক্য থাকে। খামারে গিয়ে ধীরে-সুস্থে গরু দেখা যায়। ঢাকায় ভাড়া বাসায় গরু রাখা কঠিন, তাই খামার থেকেই কেনা সুবিধাজনক।”

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার হাইজিনিক অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির কাস্টমার ম্যানেজার আরিফিন জানান, এবার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে সাতজন মিলে ভাগে কোরবানির সেবা। তাদের ৬০টি ভাগের টার্গেট ইতোমধ্যে পূরণ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, “গ্রাহকরা পরিবার নিয়ে এসে গরু দেখে বুকিং দিচ্ছেন। আমাদের প্রিমিয়াম ও স্ট্যান্ডার্ড-দুই ধরনের প্যাকেজ রয়েছে। চাইলে কাস্টমাররা ঈদের দিন খামারে এসে কোরবানিও দেখতে পারবেন।”

খামারগুলোতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরুর। খামারিদের মতে, পশুর খাদ্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির পশুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন খামারে ঘুরে দেখা গেছে, দেশি গরুর পাশাপাশি সিন্ধি, শাহীওয়াল, ব্রাহমা, হলিস্টিন ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গরুও রয়েছে। ৯০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকার গরুই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

খিলক্ষেতের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম সাতজনের ভাগে কোরবানির জন্য দক্ষিণখানের একটি খামারে বুকিং দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঢাকায় একসঙ্গে সাতজন জোগাড় করা কঠিন। খামারের এই সার্ভিস আমাদের মতো মানুষের জন্য অনেক সুবিধাজনক। তারা বাসায় মাংসও পৌঁছে দেবে।”

এদিকে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো সংকট হবে না। দেশে বর্তমানে কোরবানির উপযোগী পশু রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি। সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে রাজধানীতে ঈদের আগের পাঁচ দিন বসবে অস্থায়ী পশুর হাট। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১২টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আরও ১২টি অস্থায়ী হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া গাবতলী ও সারুলিয়ায় রয়েছে দুটি স্থায়ী পশুর হাট।

সব মিলিয়ে এবারও রাজধানীতে জমে উঠছে কোরবানির পশুর বাজার। তবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে ক্রেতাদের ধরণ ও চাহিদা। ভিড়ভাট্টার হাটের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবাকেন্দ্রিক খামারভিত্তিক কোরবানি এখন হয়ে উঠছে নগর জীবনের নতুন বাস্তবতা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom