কৃষি ও প্রকৃতি

হাওরাঞ্চলে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকদের ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

১৬ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা তার অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মধ্যনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর হাওরের প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় ধান কাটার পর রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় পরিবহন করা যাচ্ছে না। ফলে কাটা ধান ঘরে তুলতেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

একই সঙ্গে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকট, শ্রমিক ঘাটতি এবং হারভেস্টার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কারণে ধান কাটা ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এতে অনেক কৃষকের জন্য উৎপাদন খরচই এখন বিক্রয়মূল্যের কাছাকাছি বা বেশি হয়ে যাচ্ছে।

মধ্যনগর হাওরাঞ্চলের আড়ৎগুলোতে ধান কেনাবেচাও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আড়ৎ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরুণ সরকার বলেন, “এবার ধানের বাজার খুবই স্থবির। ভালো মানের ধান সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে।”

কৃষকরা বলছেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সময়মতো না শুরু হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কম দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।

বোয়ালা হাওরের কৃষক বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম কার্যকর না থাকায় নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একই অভিযোগ করেন টগার হাওরের কৃষক খায়রুল ইসলাম, তিনি জানান রোদ ও শুকানোর সমস্যায় অনেক ধান নষ্ট হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা এবং বাজার তদারকির দুর্বলতাই মূল সমস্যা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর ক্রয় ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

তবে কৃষকদের মতে, দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম জোরদার না করলে হাওরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom